নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ওয়েভার স্কিমের ধাক্কায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বাড়ল কলকাতা পুরসভার আয়। টার্গেট ছুঁতে পেরে স্বস্তিতে পুর কর্তারা। সূত্রে খবর, শেষ অর্থবর্ষে (২০২০-২১) পুরনো সব রেকর্ড ভাঙ্গা গিয়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত সম্পত্তি করে ওয়েভার থেকে আয় হয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। আর সেই ধাক্কায় এক লাফে পুরসভার এই খাতে আয় হয়েছে ১১৮৩ কোটি টাকা।
আগের অর্থবছর (২০১৯-২০) যা ছিল ৮৫৮ কোটি টাকা। এর আগে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আমলে যে ওয়েভার স্কিম হয়েছিল, সেখানে পুরসভার আয় হয়েছিল ৩৩৯ কোটি টাকা। সেখানে চলতি ওয়েভারের স্কিমের প্রথম পাঁচ মাসে পুরসভার ঘরে ঢুকেছে ৫২১ কোটি টাকা। আরও তিন মাস এই স্কিম শেষ হতে বাকি রয়েছে।
ফলে, এই আয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলেই মনে করছেন পুর কর্তারা। এই প্রথম সুদ এবং পেনাল্টিতে ১০০ শতাংশ নজিরবিহীন ছাড় দিয়ে ওয়েভার স্কিম নিয়ে এসেছিল পুরসভা। করোনাকালে লকডাউন, পুর কোষাগারের কার্যত হাল বেহাল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ওয়েভার ছাড়া আর গতি ছিল না। মাঠে নামেন কর এবং রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকরা।
বিপুল বকেয়াধারীদের চিহ্নিত করে চলে অভিযান। তবে লকডাউনের জেরে পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের আয় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তথ্য বলছে, বছর শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, মোটামুটি সন্তোষজনক আদায় হয়েছে। বাজার বিভাগ থেকে গতবার পুরসভার আয় হয়েছিল ১৯ কোটি টাকা।
সেখানে এবার শেষ অর্থবর্ষের প্রথম তিন থেকে চার মাস লকডাউনের ধাক্কা সামলেও আয় হয়েছে ২১ কোটি। লাইসেন্স বিভাগ থেকেও আয় প্রায় ছয় লক্ষ টাকা বেড়েছে। সেই অর্থে আদায় কম হয়েছে পার্কিং থেকে। গত বার আদায় হয়েছিল ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এবার হয়েছে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
