দেবাঞ্জন কাণ্ডের পরেও নির্বাক প্রশাসন, নাকের ডগায় চলছে অবৈধ টিকাকরণ

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ফের টিকা শিবির নিয়ে সরকারি নিয়ম ভাঙ্গার অভিযোগ উঠল শহরে। এবার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে কলকাতা পুরসভার ( KMC ) ১১৫ ওয়ার্ডের পুটিয়ারি পঞ্চানন তলা রোডে। সেখানে সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের ক্লাবের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চলছে সেই টিকাকরণ কর্মসূচি। কিন্তু বাড়ি বাড়ি টিকাকরণের কোনও অনুমতি নেই, জানাচ্ছে স্বাস্থ্যভবন।

যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কলকাতা পুরসভাও জানিয়ে দিয়েছে, এমন কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। দেবাঞ্জন কাণ্ডের পর টিকা শিবির নিয়ে করা নির্দেশিকা জারি করেছিল স্বাস্থ্যভবন। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরে ফের বাড়ি বাড়ি টিকা দেওয়া হয়েছে। সেটা কলকাতা পুরসভার ঢিলেঢালা নজরদারিকে চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিল। পশ্চিম পুটিমারির দা ইউনাইটেড ক্লাব। সেখানেই চলছে টিকা শিবির।

স্থানীয় বাসিন্দা রজত শেখর হাওলাদার নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে বুক ফুলিয়ে ক্লাবের সহযোগিতায় এবং উদ্যোগে ত্রান কমিটির পক্ষ থেকে টিকা শিবিরের প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীর অনুগামী বলেই প্রচার করেছেন তিনি। রজতবাবুর দাবি, স্বাস্থ্যভবন এবং কলকাতা পুরসভার অনুমতি নিয়েই টিকা শিবির চলছে। কিন্তু বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার অনুমতি কি তিনি পেয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে উল্টো সুর রজতবাবু মুখে।

বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার ভিডিও এবং ছবি তিনি নিজেই নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। কিন্তু প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে রজতবাবুর দাবি, ওরকম ফেসবুকে অনেকেই অনেক কিছু দেয়। আমি তো ফেসবুক ব্যবহার করি না। তাহলে কি তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর ফেসবুক অন্য কেউ ব্যবহার করেছে? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি ওই ব্যক্তির থেকে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ওই ক্লাবেই টিকাকরণ শিবিরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ওই ক্লাবকে সিভিসি হিসেবে ওই হাসপাতাল ব্যবহার করছে। কিন্তু সেই অনুমতিকে ঢাল করেই সরকারি নিয়ম ভাঙছে ওই ক্লাব। স্বাস্থ্যভবন বাড়ি বাড়ি টিকা দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। স্বাস্থ্যভবন জানাচ্ছে, বেসরকারি হাসপাতাল নিজের ওয়ার্কপ্লেস সিভিসি হিসেবে ওই ক্লাবে টিকা শিবির চালানোর অনুমতি চেয়েছিল। সেটা আমরা দিয়েছি। কিন্তু বাড়ি বাড়ি টিকা দেওয়ার অনুমতি নেই। এটা বেআইনি।


এই প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর রত্না সুর বলেন, খবর এসেছে। কলকাতা পুরসভাকে বিষয়টা জানিয়েছি। কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ এসেছে। বেসরকারিভাবে কিছু হয়ে থাকলে সেটা স্বাস্থ্যভবনকেই দেখতে হবে। কয়েকদিন আগে একইভাবে বাড়ি বাড়ি টিক্কা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৃণমূলের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর অসীম বসু। যার জেরে কলকাতা পুরসভার স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন