Madan Mitra 21st July : করোনা বিধি-নিষেধের কথা মাথায় রেখেই এবছর ভার্চুয়াল একুশে জুলাই ( 21st July ) পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC )। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অনুষ্ঠান হয় ধর্মতলায় মঞ্চ বেঁধে। এ বছর প্রকাশ্য সমাবেশের পরিবর্তে ভার্চুয়াল। এবছরের একুশে জুলাই কে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে তৃণমূল। দেশের বেশ কিছু রাজ্যে বড় স্ক্রিনের মাধ্যমে মমতার বক্তব্য সম্প্রচারিত হবে।
তৃণমূল শিবিরে বেশ কিছুদিন ধরেই এই সভা নিয়ে হইহই চললেও তাকে কথায় কথায় কটাক্ষ করে চলেছে বিরোধী শিবির বিজেপি। তাদের মন্তব্য, গুজরাট, তামিলনাড়ু ,অন্ধপ্রদেশ কিংবা মধ্যপ্রদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের ক’জন কর্মী সমর্থক আছে, সেটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও জানেন না। হাতে গুনে একজন-দুজনকে খুঁজে পাওয়াও মুশকিল। অথচ সেখানে ঠিকাদারকে লাগিয়ে বড় স্ক্রিনের ব্যবস্থা করে ভাষণ দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।
এটা একটা নিছক নাটক বাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে বিরোধীরা যে মন্তব্য করুক, ধুমধামের সঙ্গেই এবার দেশজুড়ে একুশে জুলাই করা হচ্ছে। একদিকে ভার্চুয়াল অন্যদিকে মমতারই দলের আরেক নেতা মদন মিত্র ( Madan Mitra ), তিনি ঘটা করে কামারহাটি তে একুশে জুলাই পালন করলেন সাতসকালে মিছিল করে। করোনা বিধিকে কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, ভিড় জমিয়ে সকাল থেকে কামারহাটি দাপালেন মমতা।
অতিনাটকীয় চমক দেখানোর জন্য টোটোতে মিছিল করলেন কামরাটিতে। তাহলে এই ভার্চুয়াল এর মানেটা কি রইল, প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তাদের কথায়, একুশে জুলাই ভার্চুয়াল করা হলো করণা বিধি-নিষেধকে মাথায় রেখে, তাহলে কামারহাটিতে টোটো চালিয়ে মদন মিছিল কবলেন কেন? আসলে মদন মিত্র ২০১১ সালে নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হয়েছিলেন। দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে দল না পাল্টে থেকে গিয়েছেন তৃণমূলে।
সারদা নিয়ে সিবিআইয়ের চাপ সত্ত্বেও জেল খেটেছেন। বলা ভালো হাসপাতাল খেটেছেন। তারপর ২০১৬ নির্বাচনে লড়েছেন, হেরেছেন। এবার নির্বাচনে জিতলেই তিনি মন্ত্রী হবেন এমন আশায় তার মন ছিল টইটুম্বুর। কিন্তু সে গুড়ে বালি। তৃণমূল নেতাকে মন্ত্রিসভার সদস্য করলেন না মমতা। হতাশায় মদন মিত্র এখন মন্ত্রিসভায় ফিরতে মরিয়া।
এজন্যে নানাভাবে তিনি খবরের শিরোনামে থাকতে চান।প্রতিদিন অভিনব উপায় বার করছেন ভেসে থাকতে। ছবি হচ্ছে, হচ্ছেন মদন মিত্র। ভেসে আছেন রাজনীতিতে। ভেসে থাকাটাই এখন মদনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, করোনার বিধি-নিষেধ নেহাতই তুচ্ছ ব্যাপার তার সামনে।
