কলকাতা : পাম্প নেই। বলা ভালো পাম্প বসানোর টাকা নেই কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) কাছে। বসানো হয়নি নিকাশি পাইপও। অথচ শুধু তৈরি হওয়া ঘরটুকু নীল সাদা রঙ করেই ভোটের আগে বেমালুম উদ্বোধন হয়েছে গল্ফগ্রিনের ( Golf Green ) জোড়াপুকুর পাম্পিং স্টেশনের। এই কীর্তি করেছে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল বোর্ড। এখন টাকা জোগাড়ের তোড়জোড় শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।
জোড়াপুকুর পাম্পিং স্টেশন হলে, জমা জলের দুর্ভোগের হাত থেকে রেহাই পাবেন ৯৪, ৯৫, ৯৬, ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। বিজয়গড়, বিক্রমগড়, আজাদগড়, অশকনগর, গল্ফ গ্রিন এলাকা জল নিষ্কাশনের বেহাল অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই এসমস্ত এলাকা দীর্ঘ সময় থাকছে জলের তলায়। বর্ষাকালে জমা জলের দুর্ভোগের জেরে বিপর্যস্ত হচ্ছে এই সমস্ত এলাকার জনজীবন।
এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পরিকল্পনা হয় গল্ফগ্রিনের কাঁটাপুকুর এলাকায় হবে নতুন পাম্পিং স্টেশন। পাম্পিং স্টেশনে আসা জল স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে আদিগঙ্গায় পড়ার কথা। কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে খবর, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে যে সংস্থা ছিল তারা কর্পোরেশনের থেকে টাকা না পেয়ে কাজ থামিয়ে দিয়েছিল। এখন ১৬ কোটি টাকা বকেয়া।
টাকা হাতে না পেলে কাজ করা অসম্ভব, সংস্থার তরফে এমনই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সদ্য পাম্পিং স্টেশনের সরঞ্জাম সব স্তূপাকারে রাখা হয়েছে, অর্ধের বেশি বাকি কাজ। সেই অবস্থায় ভোটের তিন মাস আগেই জেনে শুনেই তৃণমূল পৌর বোর্ড উদ্বোধন করে এই পাম্পিং স্টেশনের। উদ্বোধন করেন খোদ ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ( Arup Biswas )। ছিলেন বরো কো-অর্ডিনেটর তপন দাশগুপ্ত।
সব মিলিয়ে ৩৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকারী সংস্থা অভিযোগ, তাঁরা হাতে পেয়েছে মাত্র ৯ কোটি টাকা। সেই টাকায় যতটুকু কাজ হওয়ার ছিল হয়েছে। বাকি কাজ গত তিন চার মাস ধরে বন্ধ। প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি জানান ১০ নম্বর বরোর কো-অর্ডিনেটর তপন দাশগুপ্ত। তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রসঙ্গে ১০নম্বর বরোর ( Borough ) কো-অর্ডিনেটর তপন দাশগুপ্ত বলেছেন, ৯৪ নম্বর ওয়ার্ডে যে পাম্পিং স্টেশনের কাজ টাকার অভাবে আটকে আছে। নির্মাণকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, টাকা না পেলে কোনো কাজ হবে না। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে বলেছি। টাকা দিলেই হয়ে যাবে।
৯৪ নম্বর ওয়ার্ডের গল্ফ ক্লাব রোডস্থিত জোড়াপুকুর নিকাশ পাম্পিং স্টেশন। ২০১৮ সালে ম্যাকিনটোস বার্ন লিমিটেড বরাত পেয়েছিল এই কাজের। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের মাঝামাঝি। তবে কলকাতা কর্পোরেশন চুক্তি মতো টাকা দিতে না পারায় বিরাট টাকা বকেয়া। মাঝপথে কাজ থামিয়ে দিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা।
