রানার প্রতিবেদন : শারীরিকভাবে ফিট রাখতে জিমে যাওয়ার কথা ভাবেন অনেকেই। ভাবার কিন্তু কারণ নেই। কারণ সম্প্ৰতি গবেষণার তথ্য অনুসারে, জিমে না যাওয়ার জন্য কোনও ব্যক্তির অপরাধবোধ বা অনুশোচনায় ভোগার কোনও ভাবনা মাথায় যেন না আসে। গবেষণাটি করেছে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি ( American Cancer Society )। এই সোসাইটির সমীক্ষা অনুসারে, জিমে ( Gym ) যাওয়ার পরিবৰ্তে প্রতি সপ্তাহে ছয় ঘণ্টা হাঁটাচলা করলে একজন মানুষ বেশি সময় বাঁচার শক্তি পায়।
অৰ্থাৎ অধিক সময় বাঁচতে সহায়তা করে এই হাঁটা। গবেষকরা বলেছেন, ফিট এবং স্বাস্থ্যকর থাকার উপায় কখনও ভারী কোনও যন্ত্ৰপাতি বহন করে ব্যস্ত থাকা হতে পারে না। প্রত্যেক মানুষকে চলমান থাকতে হবে। হাঁটা, নাচা, পোষ্য প্রাণীর সঙ্গে হাঁটাচলা করা, নিজেকে যেভাবে ভালো লাগে তেমনই করা, কিন্তু সবকিছুর মধ্যে চলতে থাকুন। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দ্ৰুত হাঁটলে হৃৎপিণ্ড ও রক্তপ্রবাহের ফিটনেস ভালো থাকে।
শুধু তাই নয়, হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, মেদ কমে, সহনশীলতা ও পেশি বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি টাইপ টু ডায়াবেটিস ( Type 2 Diabetes ), হাড়ের ক্ষয়ের পাশাপাশি কিছু কিছু ধরনের ক্যানসার ও হৃরোগের ঝুঁকি হ্ৰাস করতে সাহায্য করে। এ-বিষয়ে অ্যালপা প্যাটেল, ডিরেক্টর সিপিএস-3, আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এই গবেষণায় প্রধান তদন্তকারী ছিলেন, তিনি বলেছেন, গড়পড়তা হাঁটার তুলনায় দ্ৰুত হাঁটা মানুষেরা অবিশ্বাস্যভাবে স্বাস্থ্য সুবিধা লাভ করেন।
আর এটি সহজ, মূল্যহীন এবং যে কোনও স্থানে চৰ্চা করা যায়। কিন্তু যাঁরা সকাল নয়টা থেকে পাঁচটায় ব্যস্ত অফিস কৰ্মের সময়সুচি, যেখানে মানুষ চেয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের চোখ কম্পিউটারের স্ক্ৰিনে আটকে থাকে, সেখানে দ্ৰত হাঁটার সময় খুব কমই সময় পান। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার দুৰ্দান্ত উপায় হল পাবলিক ট্ৰান্সপোৰ্ট ব্যবহার করা। মেট্ৰোতে চলাচল করা। অন্য কাউকে নিজের সিট ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ক্যাব পাওয়ার স্টেশন পৰ্যন্ত হেঁটে যাওয়া।
এছাড়া হাৰ্ভাৰ্ড মেডিক্যাল স্কুল প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদন বলেছে, হাঁটাচলা হৃদরোগের সম্ভাবনা ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ হ্ৰাস করে। প্রতি ঘণ্টায় কয়েক মিনিট হাঁটা বা দ্ৰুত হাঁটার জন্য এক ঘণ্টা উৎসৰ্গ করা জিমে যাওয়ার চেয়ে অধিকতর উত্তম। জিম এড়িয়ে চলার জন্য অপরাধবোধে ভোগার কোনও কারণ নেই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, স্বাস্থ্যকর মানুষরা জিমে যাওয়ার পরিবৰ্তে নিজেকে চলমান রাখতেই ব্যস্ত থাকেন
