টিকির দেখা নেই দ্বিতীয় টিকার, ক্ষুব্ধ বাজার ব্যবসায়ীরা | Covid Vaccine

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সুপার স্প্রেডারদের টিকাকরণের ‘ভ্যাক্সিনেশন অন হুইলস’ ( Vaccination on wheels ) এর ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুরসভা ( KMC )। শহর জুড়ে বিভিন্ন বাজারে দুটি বাস প্রতিদিন বিভিন্ন দোকানদার এবং কর্মচারীদের প্রথম ডোজ দিচ্ছে। মাসখানেক ধরে সেই প্রক্রিয়া চলার পর এবার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কিন্তু কলকাতা পুরসভা জানিয়ে দিয়েছে বাস পাঠিয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী টিকা কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ( Health Center ) গিয়েই নিতে হবে।

এমত অবস্থায় বাজারের দোকানদারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন ( Business Organization )। প্রথম ডোজ সহজে পাওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের। গত ৩ জুন থেকে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনেশন অন হুইলস। কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের ( Department Of Transportation ) যৌথ উদ্যোগে দুটি শহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে সেখানকার দোকানদার এবং কর্মচারীদের টিকা দিচ্ছে।

মূলত ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুরোধে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক তথা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। যথেষ্ট সাড়াও মিলেছে। ইতিমধ্যেই শহরের প্রায় ৭০-৮০টি বাজারে টিকাকরণ হয়েছে। পোস্তা বাজারে দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০০০ নাগরিক ইতিমধ্যেই টিকা নিয়েছেন। প্রথমদিকে কোভিশিল্ড কয়েকটি বাজারে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কোভিশিল্ডের অপ্রতুলতার জন্য কোভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়।

এখনো তাই হচ্ছে। এখানেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। কবি শিল্পের ক্ষেত্রে ৮৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ। ফলে সেখানে হাতে অনেকটা সময় পাচ্ছেন গ্রহীতা। কিন্তু কোন ভ্যাকসিন এর ক্ষেত্রে ২৮-৪০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। কিন্তু কলকাতা পুরসভা জানিয়ে দিয়েছে বাজারে বাজারে গিয়ে বাস পাঠিয়ে আর দ্বিতীয় দোষ দেওয়া সম্ভব নয়। কলকাতা পুরসভার মার্কেট বিভাগ এটি পরিচালনা করছে। মার্কেট বিভাগ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভার সিদ্ধান্ত বাস পাঠিয়ে দ্বিতীয় দোষ দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় ডোজ নিতে হলে কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নিতে হবে। এখানেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, কাজ ফেলে রেখে ভ্যাকসিন সেন্টারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া এখন যখন সরকার দ্বিতীয় দলের ওপর জোর দিচ্ছে, তাহলে নতুন করে বাজারে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রাখা হোক।

যাদের দ্বিতীয় ডোজ বাকি সেই বাজারে ফের বাস পাঠিয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হোক। ফেডারেশন অফ ট্রেডার্স অরগানাইজেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল অন্যতম কর্মকর্তা সুভেন্দু ঘোষ বলেন, কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে সেন্টারে গিয়ে ভ্যাকসিন দিতে হবে। কিন্তু শহরে কোভ্যাকসিন সেন্টার মাত্র ৩৮টি। সেখানে প্রচুর লোকের লাইন করছে সকাল।

এই অবস্থায় পুর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আরজি, প্রয়োজনে শহরের অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নির্দিষ্ট করে বাজারের দোকানদাদের জন্য কয়েকটা দিন পৃথকভাবে টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হোক। কলকাতা পুরসভার বাজার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুকুল রঞ্জন বারুই বলেন, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বাজারের বাস পাঠিয়ে দ্বিতীয় দোষ দেওয়া হবে না। পরবর্তী ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হবে। সেন্টারে গিয়ে বিনামূল্যে তাঁরা চাইলেই ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

আরও পড়ুন