টিকার অভাবে বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ, কেন্দ্রকে দূষছে রাজ্য

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : টিকা নেই। যার জেরে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে আম জনতাকে। টিকা নিতে নাজেহাল অবস্থা নাগরিকদের। কেউ মাঝরাত থেকে তো কেউ ভোর থেকে লাইন দিচ্ছেন। কিন্তু যোগান না থাকায় কলকাতা পুরসভা টিকা দিতে ব্যর্থ। শেষমেষ টিকা না থাকায় ফিরে যেতে হবে শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়ল মানুষ। এমনি ঘটনা ঘটেছে যাদবপুরে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ( Health Center ) বাইরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের দাবি, রাত একটা-দুটো থেকে লাইন দিয়ে টিকা পাওয়া যায়নি। বলে দেওয়া হয়েছে টিকা নেই ফলে দেওয়া সম্ভব নয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভার ( KMC ) মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন। কয়েকদিন আগে মানিকতলাতেও টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। এবার যাদবপুরের ফুলবাগানে একই ঘটনা। মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে লাইন দিয়ে অনেক সময়ই টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

টিকার অভাবে প্রথম ডোজ বন্ধ রেখে শুধু দ্বিতীয় ডোজ দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে চাহিদা বাড়লেও যোগান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে কলকাতা পুরসভা। এদিন টিকাকরণ প্রসঙ্গে ফিরহাদ জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে মোট ৩৫ লক্ষ টিকাকরণ হয়েছে শহরে। প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ জনকে টিকাকরণ করার পরিকাঠামো থাকলেও টিকা নেই। কেন পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রের সরকার টিকা দিচ্ছে না জানি না।

মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড টিকা নষ্ট করলেও পাচ্ছে। বাংলা সেখানে এটি ভায়াল থেকে ১০জনের জায়গায় ১১জনকে দিচ্ছে। আমাদের রাতে টিকা নিয়ে আসা বিমানের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হচ্ছে। সব জেলাকে স্বাস্থ্য দপ্তর ভাগ করে দিচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার সঠিকভাবে টিকার জোগান দিচ্ছে না বলেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )।

শুক্রবার এবং শনিবার কলকাতা পুরসভার সব মেগা সেন্টার ( Mega Center ) ও সমস্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুধুই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এরপর থেকে আগের দিন জানিয়ে দেওয়া হবে কোন কেন্দ্রে কত টিকা, তেমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ। আগামী দিনে নাগরিক বিক্ষোভ সামলাতে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কোন কেন্দ্রে কত টিকা দেওয়া হবে আগের দিন জানিয়ে দেওয়া হলে খামোখা লোকজন লাইনে দাঁড়াবেন না। ফলে বিক্ষোভও হবে না।

আরও পড়ুন