কলকাতা : ডেঙ্গু ( Dengue ) দমনে ইতিমধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে রাজ্য। ২০১৯ সালের তুলনা ২০২০ এবং তার থেকেও চলতি বছর ২০২১ সালে শহরে কথা রাখবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নগণ্য। যদিও বিষয়টিকে হালকা হবে দেখতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন ( Administration )। সেই কারণে রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গু দমনে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করল নবান্ন ( Nabanna )। নভেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় শহরাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে সমীক্ষা, প্রচার, লার্ভা ধ্বংস করাসহ একাধিক বিষয়ের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
একইভাবে গ্রামীণ এলাকায়ও ডেঙ্গু দমন কর্মসূচি চলবে। গত বছরের তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর রাজ্য সরকার দু’কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায়। কিন্তু এবার এই খাতে বাড়তি অর্থ খরচ করা হচ্ছে। এই অর্থে আলম কয়েকদিনের মধ্যেই বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের হাতে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে শহর কলকাতা জুড়ে ডেঙ্গু দমনে ইতিমধ্যেই নানা পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পৌরসভা।
শহরের বিভিন্ন খালগুলিতে জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বিভিন্ন পারা এবং মহল্লায় ঘুরে বাড়ি বাড়ি আনাচে-কানাচে ডেঙ্গু লার্ভা নিধনকারী ছড়িয়েছে কলকাতা পুরসভার ( KMC ) ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা। যার জেরে গত জুন মাসের শেষে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৪০ জন। গতবার এই সংখ্যাটা চলতি সময়ে ছিল ৮২ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার অন্তত ৫০ শতাংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত কমেছে শহরে।
এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডক্টর দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, আগামী দিন কয়েকের মধ্যেই রাজ্য সরকারের বরাদ্দ অর্থ আমরা পাব। তবে কলকাতা পুরসভা বছরভর সজাগ থাকে। যার ফলস্বরূপ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নিত্যদিন কমছে। যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনও অবকাশ নেই। এটা একটা সমান্তরাল প্রক্রিয়া। একটু ঢিলেমি দিলে ডেঙ্গু বেড়ে যেতে সময় লাগবে না।
তাই আপাতত শীতকাল আসার আগে পর্যন্ত নিয়মিত ডেঙ্গু লার্ভা নিধনকারী জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে, দিনদিন মারাত্মক হয়ে ওঠা মিউকোরমাইকোসিস রোগীদের অপারেশনের আগে বাড়ির লোকজনের সম্মতিপত্র তৈরি করল রাজ্য। প্রসঙ্গত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ছত্রাক ঘটিত সংক্রমণে ভুগতে থাকা বেশকিছু রোগীর চোখ, চোয়ালের কিছু অংশ সহ বিভিন্ন জায়গা বাদ দিতে হচ্ছে। সেজন্য প্রয়োজন পড়ছে অপারেশনের। সেই কারণে পরিবারের অনুমতি পত্র তৈরি করা হল। অপারেশন হওয়ার আগে পরিবারের কাছে জিজ্ঞাসা করে নেওয়া হবে।
