কলকাতা : নজিরবিহীন উত্তেজনা রাজ্য বিধানসভায় ( Assembly )। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের ভাষণ ( Jagdeep Dhankar Speech ) শুরু হতেই বিধানসভায় হট্টগোল আরম্ভ হয়। শাসক পক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC ) এবং বিরোধী পক্ষ বিজেপি ( BJP ) উভয়েই গন্ডগোল শুরু করে। এমন পরিস্থিতি রাজ্যপালের তার ভাষণ শেষ না করেই বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণে উল্লেখ না থাকায় বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি।
ভারত মাতা কী জয় স্লোগান ( Bharat Mata Ki Joy Slogan ) দিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির বিধায়করা। পাল্টা রাজ্যপালের ভাষণ মাঝ পথে থামতেই জয় বাংলা আর ধনকার হটাও স্লোগান তুলে হট্টগোল শুরু করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের ( Assembly Budget Session ) প্রথম দিনেই কার্যত উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিধানসভার অন্দরে। বিজেপির দাবি, ভোট-পরবর্তী বাংলায় বিরোধীদের ধরে ধরে মারধর করা হয়েছে।
খুন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই বিধানসভায় সেই নিয়ে আলোচনা চেয়েছে তারা। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস এবং আইন শৃংখলার অবনতির কারণ দেখিয়ে রাজ্যপালের ভাষণের সময় বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে হৈচৈ করা হয়। বিধানসভা অধিবেশন বসার আগে নওশাদ আলী কক্ষে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই ঠিক হয় রণ কৌশল।
নির্দিষ্ট সময় বিধানসভায় চলে এসেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee ) এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ( Speaker Biman Banerjee ) রাজ্যপালকে অভ্যর্থনা জানান। নিয়ম মেনে রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। তারপর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ভাষণ শেষ করে উভয় পক্ষের ঝামেলার মধ্যেও বিধানসভা ছাড়েন রাজ্যপাল।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সরকার রাজ্যপালের জন্য যে ভাষণ লিখে দিয়েছে সেখানে যদি সামান্য হলেও ভোট পরবর্তী হিংসার উল্লেখ থাকতো এবং ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস থাকতো তবে তারা দায়িত্বশীল বিরোধীদলের মতোই আচরণ করতেন এবং সভা পরিচালনায় সহযোগিতা করতেন।
