কর্মীদের কাজের অভ্যেস নষ্ট করেছে করোনা, কড়া হছে প্রশাসন

|

কলকাতা : ইতিমধ্যেই কর্মচারীদের হাজিরা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। প্রত্যেকটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কর্মচারীদের ( Employee ) হাজিরা নিয়ে সচেতন হতে বলা হয়েছে। এবার সেই বিষয়টি তাদেরও কি করতে এবং প্রতিদিন নিয়ম করে উচ্চ কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠাতে কয়েকজন পদাধিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation ) কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন পুর কমিশনার বিনোদ কুমার ( Vinod Kumar )।

করোনাকালে লকডাউনে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক এবং সচল রাখতে কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ টানা কাজ করে গিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, নিকাশি, জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের কর্মী এবং আধিকারিকেরা যথেষ্ট কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে আনলকপর্বে কর্মচারীদের অফিসের নিয়ে আসার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এখন সময় বদলেছে। সবকিছু আগের মত স্বাভাবিক হওয়ায় কর্মচারীদের হাজিরার ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়।

দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মচারী এখনও গা ঢিলেমি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। সঠিক সময়ে অফিসে আসছেন না। অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়ছে বলেই কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর। এবার সেই বেনিয়ম রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাজিরার ক্ষেত্রে সময়সীমা মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক কর্মীকে নিজের নিজের বিভাগে ঢোকা এবং বেরোনোর সময় উল্লেখ করতে হবে হাজিরা খাতায়, থাকবে স্বাক্ষর।

দপ্তরের একজন আধিকারিক এই খাতা দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ১১টা নাগাদ সেই খাতা দপ্তরের আধিকারিকের কাছে পাঠাতে হবে। বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মীদের হাজিরা সংক্রান্ত তথ্য এসএমএস করে পাঠাতে হবে পুর কমিশনার বিনোদ কুমারের কাছে। সামগ্রিক বিষয়টি দেখভাল করবেন প্রত্যেকটি বিভাগের নির্দিষ্ট আধিকারিক। একটি প্রফর্মা তৈরি করে বিভাগীয় ডিসিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কোন আধিকারিকরা এই কাজ তদারকি করবেন তাদের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে কমিশনারের কাছে। সেইমতো প্রতিদিন সকাল সাড়ে এগারোটার মধ্যে কর্মী হাজিরার তথ্য একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে এসএমএস করে এবং একই সঙ্গে মিল করতে হবে পুরো কমিশনারের কাছে।সেইসঙ্গে বিনা অনুমতিতে ইচ্ছামতো ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

বিনা অনুমতিতে ৩০ দিন ছুটি নিলে বেতন কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সকল কর্মীরা একরকম না। পরিষেবা সচল রাখতে পুর কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। করোনাকালে বিভিন্ন জরুরি বিভাগ দারুণ পারফরম্যান্স করেছে। তখন কর্মীদের হাজিরার ক্ষেত্রে এতটা কড়াকড়ি করা হয়নি।

কিন্তু বর্তমানে যখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে, তখনও একাংশের কর্মীরা বেনিয়ম করে যাচ্ছেন। তাঁদের আটকাতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুর প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কর্মীদের একাংশ অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। সেই কারণে হাজিরার নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন