নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কলকাতা পুরসভার অস্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মীর ( Temporary Health Worker ) সংখ্যা কত? সরাসরি অথবা এজেন্সি মারফত চুক্তিভিত্তিক কর্মী কত? কোন নির্দিষ্ট তথ্য নেই কলকাতা পুরসভার কাছে। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন বরোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই অস্থায়ী কর্মীরা। তাই একটা ডাটাবেস তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের চুক্তি পুনর্নবীকরণ হবে এবার অনলাইনেই, অ্যাপের মাধ্যমে।
তেমনটাই পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। সেই কারণে ডেটাবেস তৈরি করতে নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ। জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যেকটি বরো থেকে বরো এক্সিকিউটিভ হেলথ অফিসারকে তাঁর অধীনে থাকা সমস্ত অস্থায়ী ( চুক্তিভিত্তিক/ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক/ ডাইরেক্ট ক্যাজুয়াল) কর্মীদের তালিকা পুর-কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করতে হবে।
নাম, ঠিকানা, পারিবারিক জীবনপঞ্জী সহ সামগ্রিক তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেগুলিকে একত্রিত করে তৈরি হবে অনলাইনে আপলোড করা হবে। ফলে কত সংখ্যক কর্মী, কত টাকা প্রতি মাসে পাচ্ছেন, কে কবে যোগদান করেছেন, কার কবে চুক্তি শেষ হচ্ছে, তার সামগ্রিক তথ্য থাকবে পুরসভার হাতে। একদিনে যেমন কাগজের ব্যবহার কমবে, তেমনভাবেই সময় বাঁচবে। যদিও এই অ্যাপ পুরোটাই ‘হ্যান্ডেল ‘ করবেন বিভাগীয় কর্তারা।
সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য অতীন ঘোষ, পুর-কমিশনার বিনোদ কুমার ( Vinod Kumar ) সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন। কোন কর্মীর কবে চুক্তি শেষ হচ্ছে তা জানান দেবে এই অ্যাপ। ফলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কন্ট্রোলিং অফিসাররা। সেইমতো চুক্তি পুনর্নবীকরণ করার প্রক্রিয়া অ্যাপের মাধ্যমে শুরু করে দেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে অ্যাপের মাধ্যমে তার অনুমতি দিয়ে দেবেন।
এই প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ জানান, সামগ্রিক প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে। সেই কারণে তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ চলছে। সেইমতো আধিকারিকদের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এইভাবে সামগ্রিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে করা যাবে। একদিকে যেমন নির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার থাকবে, তেমনি কাগজের ব্যবহার কমবে।
পাশাপাশি পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে যে অনেক সময় জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় তা এক লহমায় বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নয়। গোটা পুরসভাতেই কত সংখ্যক অস্থায়ী কর্মী রয়েছে, তার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই পুর-কমিশনার বিনোদ কুমার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিভাগও পৃথক নির্দেশিকা জারি করল।
