নাগরিক – প্রশাসন সম্পর্কের জন্যও এবার সোশ্যাল মিডিয়া

|

কলকাতা : শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, মানুষের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে আধিকারিকদেরও। সোশ্যাল মিডিয়া ( Social Media ) থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখে নিতে হবে ব্যবস্থা। এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation )। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, মূলত কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim ) এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। পুরসভার বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আসা নানাবিধ অভিযোগকে এবার খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সেই জন্য নিয়মিত নজর রাখতে হবে। পুর-কর্মী ও আধিকারিকদের সোশ্যাল মিডিয়াতে সড়গড় হতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম ফোনে বলেন, সোশ্যাল সাইট থেকে পাওয়া অভিযোগ আধিকারিকরা নথিভূক্ত করবেন এবং রিপোর্ট ব্যাক করতে হবে। কবে হয়েছে, কখন হয়েছে, কিভাবে সমাধান হবে সবটাই। নাগরিক পরিষেবা, কোনটা দিতে পারলাম আর কোনটা দিতে পারলাম না বা কেন পারলাম না সেটা জানাতে হবে।

পুরসভার সমস্ত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মাধ্যম নিয়মিত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পুর-প্রশাসনের সঙ্গেও আমজনতার যোগসূত্র স্থাপন হলে নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত মিটবে। সম্প্রতি এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন পুর-কমিশনার বিনোদ কুমার ( Vinod Kumar )। সেই বিজ্ঞপ্তিতে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের স্পষ্ট নির্দেশ, শুধুমাত্র ‘ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন’ নয়। নাগরিকের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে ‘টু ওয়ে কমিউনিকেশন’।

অর্থাৎ পুরসভার বিভিন্ন সোশ্যাল সাইট যেমন ওয়েবসাইট, ফেসবুক, টুইটার কিংবা অ্যাপস যেখানে প্রতিদিন নানা বিষয়ে অভিযোগ কিংবা সমস্যার কথা জানান শহরের আমজনতা। অনেক সময় থাকে নানাবিধ পরামর্শও। কিন্তু সেগুলি সব সময় খতিয়ে দেখা হয় না। এবার সেগুলি নথিভুক্ত করে প্রয়োজনমতো সমস্যা সমাধান করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যেকটি বিভাগকে এই ধরনের সমস্যা কিংবা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই কারণে প্রত্যেকটি বিভাগের কন্ট্রোলিং অফিসারদের নামের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। যাঁরা পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন। উল্লেখ্য, কেএমসির নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ রয়েছে। রয়েছে টুইটার এবং অ্যাপ। কিন্তু ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় হলেও টুইটার এবং অ্যাপ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়নি।

এছাড়াও রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানানোর সুযোগ। এইসব মাধ্যমে প্রতিদিন ভুরিভুরি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগ আসে। ভাঙ্গা রাস্তা থেকে শুরু করে পানীয় জলের সমস্যা ( Drinking Water Problem ) কিংবা জঞ্জাল সাফাই। সবথেকে বেশি অভিযোগ মেলে মিউটেশন ( Mutation ) এবং সম্পত্তি কর ( Property Tax ) সংক্রান্ত। কিন্তু সব সময় সেখানকার অভিযোগ নথিভুক্ত হয় না। এই প্রসঙ্গে পুরসভার আইটি বিভাগের ( Information Technology Department ) দায়িত্বপ্রাপ্ত সন্দীপন সাহা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছি আমরা। যাতে মানুষের সঙ্গে দুই তরফেই একটা যোগাযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন