চেনেন ওনাকে? কলকাতার এই তরুণীর জন্যই বিশ্বের সব বাঙালি আজ গর্বিত

|

রানার প্রতিবেদন : এক মুহূর্তে ছেড়ে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত। বিনিময়ে গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবায়। নাম ভাষা মুখার্জি । ডাক্তারি বিদ্যায় দুটো গুরুত্বপূর্ন ডিগ্রি ওনার পকেটে। এই তরুণীর আর একটা পরিচয় জানেন? উনি হলেন বিশ্বের অন্যতম ডাইসাইটে সুন্দরী মডেল। গত ২০১৯ সালের ইংল্যান্ডের সেরা সুন্দরী, মিস ইংল্যান্ড খেতাব বিজয়ী ভাষা মুখার্জি।

ভাষার পকেটে দুটো সার্টিফিকেট। ব্যাচেলর অফ মেডিসিন এবং ব্যাচেলর অফ সার্জারি। মিস ইংল্যান্ড হবার পর বিভিন্ন এন্ডোরসমেন্ট থেকে বিপুল অর্থ রোজগারের রাস্তা খুলে যায় ভাষার। তিনি ঠিক করেন, এই রোজগারের টাকা দিয়ে সমাজসেবা করে যাবেন। ভারত সহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে শুরু হয় কাজ। এরপরই আচমকাই তিনি ছেদ টানলেন অর্থ রোজগারে, সমাজসেবার কাজ সংস্থার কর্মীরা চালিয়ে যাচ্ছে, তিনি নিজে সব ছেড়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে।

সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাষা বলেছেন,”আমি তখন আমার সেবামূলক কাজে ভারতে ব্যস্ত। হটাৎ আমার কাছে ফোন এলো পূর্ব ইংল্যান্ডের বোস্টনেপিলগ্রিম হসপিটাল থেকে। আমার প্রাক্তন সহকর্মীদের কাছ থেকে শুনলাম,পরিস্থিতি কি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। তখন মনে হলো, দেশের এই কঠিন সময় আমি মিস ইংল্যান্ডের খেতাবি পোশাক পরে থাকবো?ঠিক করলাম, আমাকে এখন চিকিৎসকের পোশাক পরতে হবে।

সোজা ফিরে গেলাম দেশে। টানা ১৪ দিন হোম কোয়ারাইন্টানে থাকার পর যখন দেখলাম আমি আক্রান্ত নই, তখনই চলে এলাম আমার পুরনো ঠিকানায়। যোগ দিলাম আমার পুরনো হাসপাতালের টাস্কফোর্স টিমে। এরপর তিনি বলেন, “আমরা বাঙালিরা চার পুরুষ ধরে সয়েছি বিশ্বযুদ্ধ, মহামারী, ধর্মীয় দাঙ্গা আর দেশভাগ। কিন্তু এই সংকট যেন অতীতকে ছাপিয়ে যেতে চলেছে।

সবাইকে অনুরোধ, আপনাদের বাঁচাতে আমরা জীবন বিপন্ন করতে রাজি, শুধু আপনারা নিজের নিজের বাড়িতে থেকে, নিজেকে ও দেশকে বাঁচান।” ১৯৯৫ সালে কলকাতায় জন্ম ভাষার। কিন্তু যখন তার বয়স মাত্র ন’বছর তখন তার বাবাকে কর্মসূত্রে পারি জমাতে হয় ইংল্যান্ডে। মা-বাবার হাত ধরে সেই ইংল্যান্ড যাত্রা। জন্মসূত্রে এই ভারতীয় বাঙালি আজ ইংল্যান্ডের নাগরিক। ছোট বেলা থেকেই ভাষা সকলের নজর কেড়ে নিয়েছিল তার চোখ ধাঁধানো রূপ আর উজ্জ্বল মেধার জন্য।

ক্লাসে বরাবর প্রথম সারিতে থাকা এই তরুনী চিকিৎসা শাস্ত্রে অত্যন্ত ভাল ফল করে, ডাক্তারি পেশায় যুক্ত হয়ে যান। তারপর হটাৎ একদিন তাকে দেখা গেল মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার মঞ্চে। কি কারন? উত্তর দিলেন নিজেই। বললেন, একটা পুরনো ধারণা, আজও অনেকে বহন করে নিয়ে চলেছেন, সেটা হলো সুন্দরী মেয়েরা তত মেধাবী হয় না। ধারনাটা সম্পুর্ন ভুল।

এই ভুলটা ভাঙানোর জন্য এখনও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে হলো আমার। তাই এসে দাঁড়ালাম সুন্দরী প্রতিযোগীতার মঞ্চে। আর এবার স্টেথো ঝুলিয়ে কি বললেন? ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন,” একটাই কারনে হাসপাতালে ফিরে এলাম সেটা হলো , “এই নজিরবিহীন সঙ্কটে আমার সহকর্মী-বন্ধু-দেশের নাগরিক যখন জীবন বাজি রেখে লড়াই করছে তখন আমার সামনে এছাড়া অন্য কোনও রাস্তা খোলা ছিল না।”

আরও পড়ুন