নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : গত বছর থেকেই কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের টাকা বকেয়া রাখার একাধিক অভিযোগ এসেছে। তবে এবারের অভিযোগ অবাক করে দেওয়ার মত। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের বকেয়া দূরে থাক। মেটানো হয়নি ২০১৯ লোকসভা ভোটের ডেকরেটরদের ( Decorator ) বকেয়া টাকাও। কাজ করিয়ে সেই টাকাও না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শহরে প্রতি বুথের সামনে প্যান্ডেল করা বা পানীয় জলের শিবির করার পরিকাঠামো তৈরি করে দেয় ডেকোরেটরা। কিন্তু সেই টাকা কলকাতা পুরসভায় ( KMC ) এখনও মেটায় নি বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদাররা ( Contractor ) জানাচ্ছেন, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কমিশনের নির্দেশে কলকাতার প্রতি বুথের বাইরে প্যান্ডেল করা হয়েছিল। শহর জুড়ে প্রতি বরোতেই ৫ থেকে ৭টি করে ডেকরেটর এই কাজ করেছেন।
গড়ে প্রতি বরোতে এই কাজে খরচ হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা করে। অর্থাৎ ১৬টি বরোর হিসাব করলে অঙ্ক দেড় কোটি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ ডেকরেটরদের অভিযোগ, দু’বছর পরেও ১টাকা দেয়নি কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। অথচ নিয়ম মেনে সব করে বিলও পুর সচিবের দপ্তরে জমা করা হয়েছিল। তারপর টাকা দেওয়ার কোনও নামগন্ধ করেনি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেকরেটর মালিকের কথায়, প্রচুর টাকা বকেয়া।
বিধানসভা ভোটেও মোটামুটি সেই টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র ২২ লক্ষ টাকা মিটিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এখনও প্রায় আড়াই কোটির বেশি পাওনা রয়েছে। বছরখানেক বড় ধাক্কা খেয়েছি লকডাউনের জেরে। ব্যবসা করতে এসেছি রোজগার করতে। ঘর থেকে পয়সা কত দিন দেব? নির্বাচন কমিশনের চাপের মুখে কাজ করতে যদি বাধ্যও হই তবে বকেয়া না মিটলে কতটা সুষ্টুভাবে এবার কাজ করতে পারব তা বুঝতে পারছি না।
বিষয়টি পুরসচিব হরিহর প্রসাদ মণ্ডলে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এবিষয় মুখ খুলতে চাননি। আরও এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, টাকা বকেয়া আছে এটা আমি জানতাম না। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। যদিও এই বিষয়গুলো জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-রা দেখেন। আমাদের কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা তাঁদের সাহায্য করে থাকেন। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু টাকা আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা আসেনি বলেই দাবি কলকাতা পুরসভার ওই শীর্ষ আধিকারিকের।
