করোনা বাধা বিপত্তি কাঠিয়ে জাপানে পুনরায় আগমন অলিম্পিকের

|

রানার প্রতিবেদন : আধুনিক অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বজুড়ে ২০০ টিরও বেশি দেশের কয়েক হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। অলিম্পিক গেমস সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি চার বছরের সময়কালে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অলিম্পিকের ( Winter Olympics ) মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হয়।

খুব শীঘ্রই জাপানের টোকিওতে শুরু হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ( Summer Olympics ), যা টোকিও অলিম্পিক ( Tokyo Olympics ) নামেও পরিচিত। ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য ২০২০ সালের ২৪ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়সূচি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। মহামারীর প্রকোপ কমায় পুনরায় ২৩ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০২১ সময়সূচির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “২০২০ গ্রীষ্মকালীন টোকিও অলিম্পিক গেমস।”

অলিম্পিকের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো অলিম্পিক প্রতিযোগিতা বাতিল না করে, স্থগিত ও পুনঃনির্ধারিত করা হলো। ২০২১ সালে ইভেন্টটি পুনরায় নির্ধারণ করা হলেও ব্যবসা ও ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে “টোকিও অলিম্পিক ২০২০” নামটি রাখা হয়েছে। এই নিয়ে জাপান ( Japan ) দ্বিতীয়বারের জন্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এর আগে ১৯৬৪ সালে টোকিওতেই গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করেছিল জাপান। তাছাড়াও ১৯৭২ সালে স্যাপ্পোরোতে ( Sapporo ) এবং ১৯৯৮ সালে নাগানোতে ( Nagano ) শীতকালীন অলিম্পিক নিয়ে চতুর্থবারের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চলেছে জাপান।

এই প্রথম অলিম্পিক গেমস ধারাবাহিক তিনবার পূর্ব এশিয়াতে ( East Asia ) অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং ( Pyeongchang, South Korea ) শহরে, দ্বিতীয়বার ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকস এবং তারপরে ২০২২ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবার টোকিও অলিম্পিকে সংযোজন হিসাবে পাঁচ নতুন খেলা যুক্ত হবে যার নামগুলো হলো কারাটে, আরোহণ, সার্ফিং এবং স্কেটবোর্ডিংয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের জন্য বেসবল বা সফটবলও আত্মপ্রকাশ করবে।

টোকিও অলিম্পিকে এই পর্যায়ে, ৯,৮০০ এরও বেশি ক্রীড়াবিদ ইতিমধ্যে এই গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২০ গেমসে আইওসি-র শরণার্থী অলিম্পিক দলের অংশ হিসাবে ২৯ জন অ্যাথলেট যোগ্যতা অর্জন করেছে। টোকিও অলিম্পিকে ৩৪ রকমের খেলা প্রদর্শন হবে। এবং এই অলিম্পিকে 11,800 – এর বেশি অ্যাথলিটকে অলিম্পিক সংহতি টোকিও ২০২০ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এবং ২০২১ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত ২০১ জাতীয় অলিম্পিক কমিটি টোকিও অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, যার মধ্যে ভারতও একটা।

১৯২০ সাল থেকে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রতিটি সংস্করণে ভারতীয় অ্যাথলেটরা অংশগ্রহণ করেছে, যদিও ভারত প্যারিসে ১৯০০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অফিসিয়াল আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাছাড়াও ১৯৬৪ গেমস থেকে শুরু করে, ইন্ডিয়া ( India ) প্রত্যেক শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করেছে। আর এবছর ২০২১ সাল ভারত টোকিও অলিম্পিকেও অংশগ্রহণ করতে চলেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করেছেন। এই অলিম্পিকে ১৮ রকমের স্পোর্টসের সাথে ১০৯ ভারতীয় ক্রীড়াবিদ জাপানে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চলেছে, যার মধ্যে দীপিকা কুমারী, শিবপাল সিং, বিকাশ কৃষ্ণ, বিনাশ ফোগাট, পিভি সিন্ধু, সায়না নেহওয়াল এবং নেত্র কুমানান নাম উল্লেখযোগ্য। এখনও পর্যন্ত ভারত অলিম্পিক ইতিহাসে ২৮ পদক জিতেছে যার মধ্যে গোল্ড ৯, সিলভার ৭ এবং ব্রোঞ্জ 12।

আরও পড়ুন