নিজের দেহেই টিকার পরীক্ষা করলেন জার্মান রাষ্ট্রপ্রধান

|

রানার প্রতিবেদন : করোনা প্রতিরোধে ‘ককটেল’ ভ্যাকসিন ( Cocktail Vaccine ) কতটা কার্যকরী তা নিয়ে চর্চা চলছে।অনেকেই ভয় পান, কিন্তু দুধরনের করোনার ভ্যাকসিন দিয়ে ককটেল চিকিৎসার কথা গবেষকরা আগেই বলেছেন। এবারে জাৰ্মানির চ্যান্সেলর ( Germany Chancellor ) অ্যাঞ্জেলা মারকেলের ( Angela Merkel ) শরীরে তা প্রয়োগ করা হল। প্রবীণ এই চ্যান্সেলর প্রথমে অক্সফোৰ্ড- অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন ( Oxford – AstraZeneca Vaccine ) নেন। আর ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে তিনি মডার্নার ভ্যাকসিন ( Moderna Vaccine ) নিয়েছেন।

জার্মান সরকারের তরফ থেকে খবরটি কনফাৰ্ম করার পরে অ্যাঞ্জেলা নিজের টুইটে তা ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্ৰে জানা গেছে ৬৬ বছরের অ্যাঞ্জেলা মারকেল প্রথমে গত এপ্রিল মাসে অ্যাস্ট্রেজেনেকারের ভ্যাকসিন নেন। কয়েকদিন আগে তাঁর করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজটি নেওয়ার সময় আসে। তখন তিনি মডার্নার ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুরকম ভ্যাকসিনের ডোজ মেশানোর ধারণাটা নিঃসন্দেহে অভিনব।

তবে এর কাৰ্যকারিতা কতটা হবে, সেই বিষয়ে বলার সময় এখনও আসেনি। এ সম্পৰ্কে আরও বিস্তারিত স্তরে গবেষণা চালাতে হবে। ওদিকে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবারে চ্যান্সেলরের পদ ছাড়তে চলেছেন অ্যাঞ্জেলা মারকেল ( Angela Merkel )। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দুমাস আগে জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলো অ্যা স্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন বন্ধ করে দেয়। কেননা তখন বলা হয়েছিল অ্যা স্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিলে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিষয়টা নিয়ে গবেষক-চিকিৎসকদের মধ্যে জোরদার আলোচনাও শুরু হয়। জার্মানি এর আগে ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এই ভ্যাকসিনের ব্যবহার সীমিত করেছিল। তবে এখন এটি সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দেওয়ার সুযোগ সেদেশের সরকার করে দিয়েছে বলে জার্মান মিডিয়া জানিয়েছে। শুরুতে অবশ্য জাৰ্মানির ভ্যাকসিনেশন কৰ্মসূচি বেশ ধীর গতিতে এগোলেও এখন টিকাদানে গতি এসছে।
জার্মানিতে মোট জনসংখ্যার অৰ্ধেকেরই ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ নেওয়া হয়ে গেছে।

গত এপ্রিল মাসে মারকেল ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেই তাঁর অফিস থেকে তা টু্ইট করে জানানো হয়। বিভিন্ন ভ্যাকসিনের ককটেল ডোজ নিয়ে অনেক দেশেই গবেষণা হচ্ছে। ব্ৰিটেনে একটি গবেষণায় দেখা গেছে অ্যা স্ট্রেজেনেকা ও ফাইজারের ভ্যাকসিন মেশালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্ৰার প্রতিক্ৰিয়া হয়। বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিনের অভাবে ও কোভিডের বিরুদ্ধে আরও উন্নত সুরক্ষা পেতে এই ককটেল ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন