কসবায় যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কিডনি খারাপের আশঙ্কা

|

রানার ডেস্ক : যারা নকল আইএএস ( IAS ) অফিসার দেবাঞ্জন এর টিকা নিয়েছেন তারা কিডনির সমস্যায় পড়তে পারেন। এই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ ( Indranil Khan )। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে কসবা বিধানসভা কেন্দ্র ( Kasba Assembly Constituency ) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত বিশিষ্ট চিকিৎসক ড.খাঁ এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, কসবায় শিবির করে দিন কয়েক ধরে মানুষের শরীরে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা কি আদৌ টিকা ছিল।

এই প্রশ্নের উত্তরে যেটা জানা যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ( Antibiotic ) শরীরে দেয়া হয়েছিল, তার নাম আমিকাসিন ( Amikacin )। খাঁ এদিন বলেন নির্দিষ্ট এই ওষুধটি ব্যবহারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। একমাত্র হাসপাতাল ছাড়া এই টিকা দেওয়া যায় না। কারন এই ওষুধের প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বলেই এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যারা ডায়াবেটিকের রোগী, যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ঔষধ ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

যাদের কিডনির সমস্যা নেই তারাও ভবিষ্যতে কিডনির সমস্যায় পড়তে পারেন এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যারা কসবার শিবিরে টিকা নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে ডক্টর খাঁর পরামর্শ, যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিজেদের কিডনি পরীক্ষা করান। তিনি বলেন বালিগঞ্জ স্টোর থেকে যেভাবে ৫৫ হাজার টিকা উধাও হয়ে গেল তা রীতিমতো উদ্বেগের। তিনি বলেন যে বা যারাই এই টিকা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে থাক তারা যদি অন্য মানুষের শরীরে সেই টিকা প্রয়োগ করে সেক্ষেত্রে একটা সন্দেহ থেকেই যায় কোল্ড চেইন ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।

কোল্ড চেইন যদি না থাকে টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। উধাও হয়ে যাওয়া সেই টিকাগুলো মানুষের শরীরে দেয়া হলেও তা কোনো কাজেই আসবে না, যদি কোল্ড চেইনের পরিকাঠামোয় সেগুলি সুরক্ষিত না রাখা হয়।তিনি বলেন, টিকার জন্য আগে একটি বিজ্ঞানসম্মত সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রত্যেককে টিকার জন্য আগে অ্যাপ এ রেজিস্ট্রেশন করতে হতো। গোটা বিষয়টি দিল্লির নজরদারির মধ্যে থাকতো।

কিন্তু রাজ্য সরকার সে ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ফলে এখন জানাও যাচ্ছে না কার নামে টিকা, কে পাচ্ছে? কোথায় টিকাকরণ হচ্ছে, আদৌ টিকা দেওয়া হচ্ছে না অন্য কিছু দেওয়া হচ্ছে, কোনো তথ্যই সঠিকভাবে আসছে না। এর ফলে টিকা নিয়ে একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর খাঁ।

আরও পড়ুন