মাতৃভক্তিতে বেজোড়, হাত নেই, মুখ দিয়েই মাকে খাওয়ান চেন

|

রানার প্রতিবেদন : মা-বাবা যেমন সন্তানকে ছোট থেকে বড় করে তোলেন, ঠিক তেমনই বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার দায়িত্ব পালন করাও সন্তানদের পরম কৰ্তব্য। মায়ের কাছে সন্তানই তাঁর শেষ আশ্ৰয়। মা যে প্ৰত্যেকের কাছে পরম আদরের আবারও তার প্ৰমাণ পাওয়া গেল চিনের ( China ) দক্ষিণ-পশ্চিমের চংকিংয়ে ( Chongqing )। পাওয়া গেল জীবনযুদ্ধে তীব্ৰ লড়াই করে চলা এক মাতৃভক্ত ছেলের সন্ধান। নাম তাঁর চেন ( Chen )। যাঁরা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্ৰমে ( Old Age Home ) রেখে আসতে দুবারও ভাবেন না, তাঁদের মাথা নত করে দেওয়ার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই চেন।

চেনের মা ২০১৫ সালে প্যারালাইজড ( paralysis ) হয়ে যান। বৰ্তমানে ৯৭ বছর বয়সি মা ক্ৰমশ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাতটিও নাড়াতে পারেন না তিনি। পুরোই পঙ্গু তিনি। প্যারালাইজড হওয়ার পর থেকেই বিছানায় এই অসহায় মায়ের জীবন কাটছে। অন্যদিকে ছেলে চেনের দুটি হাতই নেই, তবুও মায়ের প্ৰতি কৰ্তব্যের খামতি রাখছেন না তিনি। গত ৩৪ বছর ধরে প্ৰতিদিন মুখ দিয়ে চামচের মাধ্যমে বৃদ্ধা মায়ের মুখে খাবার তুলে দেন চেন। তাহলে রান্না করেন কে?

হাতহীন এই ছেলেই মায়ের জন্য তিন বেলার খাবার রান্না করেন। শারীরিক বাধা অতিক্ৰম করে চেন আজও জীবনযুদ্ধে সব প্ৰতিকূলতা জয় করতে ব্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা চেনকে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করার জন্য বলেন, কিন্তু চেন তা মানতে নারাজ। তাঁর মতে, ‘আমার হাত দুটি নেই সত্য, কিন্তু তাতে কী? আমার সুন্দর দুটি পা তো রয়েছে।’ চেনের বয়স যখন ১৪ বছর, ঠিক তখন থেকেই কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। সঙ্গে ছাগল ও মহিষ পালন করতে থাকেন।

২০ বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। সংসারের হাল টেনে ধরেন তাঁর মা। দারিদ্ৰের যন্ত্ৰণায় জৰ্জরিত হতে থাকে পরিবার। মা-কে দেখাশোনা না করে অন্য ভাই-বোনেরা পরিবার থেকে সরে যান।তবে মায়ের প্ৰতি তীব্ৰ ভালোবাসায় তাঁকে ছেড়ে কোথাও যাননি চেন। তিনি মা-কে সাহায্য করার জন্য রান্না করা শেখেন। পা দিয়েই ঘরের সব কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এখন তিনি পা দিয়েই সবজি কাটা, রান্না করা, উনুন জ্বালানো সহ সবকিছুই করতে পারেন।

এমনকী কৃষিক্ষেত্ৰ থেকে ভুট্টা এনে সেগুলো থেকে বীজ সংরক্ষণও করেন এই সাহসী যোদ্ধা। নিজের খেতে চাষাবাদও করেন তিনি একা। তাঁর রয়েছে ২৪টি ছাগল, দুটি মহিষ ও চারটি মুরগি। প্ৰতিবছর লাভের অঙ্কটাও বেশ বাড়িয়ে চলেছেন চেন। কিন্তু শীতকালে দুই পা দিয়ে কাজকৰ্ম করতে তাঁর বেশ কষ্ট হয়। মাত্ৰ সাত বছর বয়সে বিদু্যৎস্পৃষ্টের শিকার হয়ে দুই হাত হারাতে হয়েছিল চেনের। সেই তখন থেকেই দুই হাত ছাড়াই জীবনযাত্ৰার লড়াই শুরু। জীবনযুদ্ধে এই অসমসাহসী যোদ্ধাকে সত্যিই কুৰ্নিশ জানাতে হয়। তাঁর এই কাজকৰ্মের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই চেন এখন হয়ে পড়েছেন হিরো।

আরও পড়ুন