জল যন্ত্রনার জন্য দায়ী মেট্রো, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা রাজ্য সরকারের

|

কলকাতা : মেট্রোর ( Metro ) কাজের জন্যই পূর্ব কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতায় টানা দু’তিন দিন জল-ভোগান্তি হয়েছে নাগরিকের। বাইপাস সংলগ্ন নিকাশি খালগুলি পরিদর্শনের পর এমনটাই মত রাজ্য প্রশাসনের। কলকাতা পুরসভাও ( Kolkata Municipal Corporation ) শহরের নিকাশি নিয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। আপৎকালীন ভিত্তিতে সেই নিকাশি খাল থেকে বাধা সরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে কলকাতা পুরসভা তথা নবান্ন ( Nabanna )।

কিন্তু দিনের শেষে সেচ খালের নাব্যতা না থাকা নিয়ে দায় এড়াতে পারে না রাজ্য মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শহরের নিকাশি নালা ( Drainage ) থেকে ঠিকঠাক পলি তলা হয়নি বলেও কলকাতা পুরসভার দিকে আঙ্গুল উঠেছে। বাইপাস ধরে গরিয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো ( Goria Airport Metro ) রেলের কাজ করছে রেলওয়ে বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল। বহু বছর ধরেই কাজ চলছে। কাজ চলছে ঢিমেতালে। সেই কারণেই বাইপাস সংলগ্ন মূল নিকাশি খাল টালিগঞ্জ-পঞ্চান্নগ্রাম বা টিপি ক্যানেল, সুবারবান হেড কার্ট ক্যানেল, হেড কার্ট ক্যানেলে কোথাও মাটি ফেলে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার পাইপ ফেলে রাখায় জলের স্রোত বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় রাতভর বৃষ্টিতে জল জমেছে শহরে। উত্তর কলকাতার জল নেমে গেলেও পূর্ব, দক্ষিণ এবং সংযুক্ত কলকাতায় জল দু-তিন দিন পরেও নামেনি। এই অবস্থায় শহরের নিকাশি খাল গুলির নাম না থাকায় সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। তারপরে ঠিক হয় শহরের নিকাশি খালগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা এবং সেচ দপ্তরের সঙ্গে এয়ারপোর্ট গড়িয়া রুটিন মেট্রো নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থার আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, কালিকাপুরের সামনে টিপি ক্যানেলের প্রায় ৬০% বন্ধ রয়েছে। পাটুলি কিউ ব্লকের সামনেও খাল ভর্তি করা। কালিকাপুরের ওখানে সাতটি নালা দিয়ে জল যায়। তার মধ্যে চারটি নালা পুরোপুরি বন্ধ। পাটুলিতে মাটি দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আম্বেদকর সেতুর নিচে সুবারবান হেড কার্ট ক্যানেলেও বেশ কিছুটা অংশ বন্ধ। যদিও আবার হেড কার্ট ক্যানেলের বন্ধ রাখা অংশ পরিষ্কার করে দিয়েছে ওই সংস্থা।

কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, এভাবে নিকাশি খাল বুজিয়ে কাজ করতে হলে সেচদপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন। ওই সংস্থা মেট্রোর কাজের জন্য সেই অনুমতি নেয়। বর্ষার আগে পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে, নিজের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সেই কারণেই এই অবস্থা। যার জেরে কসবা, মুকুন্দপুর, সন্তোষপুর, কালিকাপুর, যাদবপুর, ঢাকুরিয়ার সহ দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অংশে জমা জল নামেনি।

এই ব্যাপারে আরভিএনএলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিত রায়কে ফোনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বেহালা, খিদিরপুর, গার্ডেনরিচের বিস্তীর্ণ অংশেও এক অবস্থা। সেখানেও নাব্যতা না থাকায় চরিয়াল, মনিখাল সহ অন্যান্য নিকাশি খালগুলির অবস্থা সঙ্গীন। বেহালা অঞ্চলের নবপল্লী, পর্ণশ্রী, রবীন্দ্রনগর, ১৬ ফিট, ১২ ফিট সহ বিভিন্ন এলাকায় কেইআইআইপির কাজ চলছে। এক বছর ধরে দেরিতে চলছে কাজ। ফলে কলকাতা পুরসভার আওতাধীন এই সংস্থার কাজের ঢিলেমি পুরসভা এড়াতে পারেনা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ওই কাজের জন্যই মূলত বেহালা অঞ্চলে টানা ৭২ ঘন্টা জল জমে।

আরও পড়ুন