রানার প্রতিবেদন : ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর ( Prashant Kishor ) এককথায় খারিজ করে দিলেন বিজেপির ( BJP ) বিরুদ্ধে কোনও ধরনের থার্ড ফ্রন্ট ( Third Front ) গঠনের উদ্যোগকে। গতকাল বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেসে ( TMC ) যোগ দেওয়া বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ যশবন্ত সিনহা ( Yashwant Sinha )। আজ মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ( Sharad Pawar ) বাড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বিরোধী শিবিরের একমাত্র কংগ্রেসকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ধরে নেওয়া হচ্ছে, বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস কে বাদ দিয়েই একটি থার্ড ফ্রন্ট ( Third Front ) গঠন এর তৎপরতা শুরু হলো। মোট ১৯ টি রাজনৈতিক দলকে এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় নাম নেই কংগ্রেসের। স্বভাবতই দেশজুড়ে আলোচনা চলছে তাহলে কি নতুন করে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের প্রয়াস শুরু হলো? এমনকি এই আলোচনাও শুরু হয়েছে, সেই প্রস্তাবিত থার্ড ফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee )।
সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের পর দেশের বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি দিল্লির শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট হতে হয় তাহলে মমতার মত একজন নেত্রী কে সামনে রাখা প্রয়োজন। গতকাল বিরোধীদের এই বৈঠক ডাকার পর সেই জল্পনা যখন তুঙ্গে তখন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রশান্ত জানান, অতীতের মতো কোনও জোট তৈরি করে বিজেপিকে আটকানোর সম্ভব নয়।
তিনি বলছেন, বিজেপিকে কিভাবে রোখা সম্ভব সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি মুম্বাইতে গিয়েছিলেন শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করতে। দীর্ঘসময় ধরে চলে বৈঠক, তারপর সোমবার তিনি দিল্লিতে দীর্ঘ সময় কথা বলেন পাওয়ারের বাড়িতে। এই নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পাওয়ার একজন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি, একজন কুশলী রাজনীতিবিদ। পাওয়ারের যে অভিজ্ঞতার ঝুলি রয়েছে সেটার সম্পর্কে তার কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিলনা।
এনসিপি ( NCP ) নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, রাজনৈতিক আলোচনাই হয়েছে এদিন। ২০২৪ এ একদিকে যেমন লোকসভা ভোট অন্যদিকে তেমনি মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোট। মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে এনসিপি’র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক ( Prashant Kishor Ipac ) । ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে গুঞ্জন উঠেছে শিবসেনা, কংগ্রেস, এনসিপি তারা আলাদা আলাদাভাবেই লড়াই করবেন। কংগ্রেসের সঙ্গে এনসিপি’র ও তিক্ততা তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে।
মনে করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে সহায়তা নিতে চাইছেন পাওয়ার। এটাও ধারণা করা হচ্ছে কেন্দ্রের শাসক দল বিরোধী জোট তৈরীর ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর। যদিও গতকাল তিনি জানিয়ে দেন , এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। পিকে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন বিজেপিকে রুখতে হলে কোন থার্ড ফ্রন্ট গঠন করে তা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের জোট তৈরি হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে সুতরাং এ ধরনের জোট সম্পর্কে তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
একইসঙ্গে এটাও বলেন, বিজেপিকে রোখা সম্ভব, বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিরোধী দল সেটা প্রমান করে দিয়েছে। সুতরাং কিভাবে কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসক দলকে রুখে দেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ শুধু মাত্র ১৯ টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিই নন, দিল্লিতে পাওয়ারের বাড়িতে বৈঠকে ডাকা হয়েছে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অধ্যাপক এবং সমাজের বিভিন্ন বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মানুষদেরও।
