দিঘা-পুরী অনেক হলো, এবার যাওয়া যাক মঙ্গলগ্রহ সফরে

|

রানার প্রতিবেদন : মাৰ্কিন রকেটবিজ্ঞানীরা বলছেন, এরই মধ্যে তাঁরা এমন প্ৰযুক্তি উদ্ভাবন করে ফেলেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে মাত্ৰ ৩৯ দিনের মধ্যে মঙ্গলগ্ৰহে পৌঁছানো যাবে। বৰ্তমান প্ৰযুক্তিতে মঙ্গলগ্ৰহে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্ৰায় ২৩৪ দিন। সে হিসেবে নতুন রকেট প্ৰযুক্তি দূরত্ব কমিয়ে আনবে ৬ ভাগের ১ ভাগ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) পদাৰ্থবিজ্ঞানী এবং সাবেক নভোচারী ফ্ৰ্যাঙ্কলিন চ্যাং ডায়াজ বলেছেন, কয়েকদশক ধরে তিনি নতুন রকেটটির উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে এটি উৎক্ষেপণ করে দেখা হবে।

তিনি আশা করছেন, পরীক্ষা সফল হলে তার হাইটেক ভিএএস-আইএসআর রকেট লালগ্ৰহ মঙ্গলে মানুষ পৌঁছে দেয়ার কাজটি নাটকীয় দ্ৰুততার সাথে করতে পারবে। সম্প্ৰতি মাৰ্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের অৰ্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বেসরকারি প্ৰতিষ্ঠানগুলোকে তাদের গবেষণা কাজে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে। বাজেট বরাদ্দ কম থাকায় ইতোমধ্যে বেশকিছু প্ৰজেক্ট তাদের গুটিয়ে নিতে হয়েছে।

নাসা আগামী দশকের শেষ নাগাদ চাঁদে মানুষ পাঠানোর যে পরিকল্পনা গ্ৰহণ করেছে অৰ্থনৈতিক সঙ্কটের কাছে তাও ঝুলে গেছে। ভেরিয়েবল স্পেসিফিক ইমপালস ম্যাগনেটোপ্লাজমা রকেট তথা ভিএসএসআইএমআর সেক্ষেত্ৰে বিজ্ঞানীদের মাঝে আশার আলো সঞ্চার করেছে। এটি তৈরিতে বেসরকারি প্ৰতিষ্ঠান সম্পূৰ্ণ ব্যয়ভার বহন করেছে, তবে নাসাকে এ ব্যাপারে অৰ্থ ব্যয় করতে হয়নি।

তাছাড়া ওই রকেট দ্ৰুততার সাথে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারবে বলে প্ৰকল্প বা মিশন ব্যয় কমে যাবে। ফলে অৰ্থনৈতিক চাপ মহাকাশ গবেষণাকে প্ৰলম্বিত করতে পারবে না। অৰ্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে নাসা চায় নতুন নতুন প্ৰযুক্তি নিয়ে বেসরকারি প্ৰতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসুক, যাতে করে নতুন প্ৰযুক্তির মহাকাশযান আবিষ্কার হয়। নাসার আবেদনে সাড়া দিয়ে চ্যাং ডায়াজের টেক্সাসভিত্তিক এডি রকেট কোম্পানি নতুন প্ৰযুক্তি নিয়ে কাজ করতে শুরু করে।

এর আগে অগ্ৰসর প্ৰযুক্তি নিয়ে তারা খুব একটা মাথা ঘামাননি। অ্যাপেলো মিশন থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে নাসা। যদিও ৪০ বছর আগে অ্যাপেলো মিশনেই চাঁদে গিয়েছিল মানুষ। এখন পুরো ভাবনাটাই হচ্ছে বিজ্ঞানীদের আধুনিক নিয়ে। ‘নন-কেমিক্যাল’ রকেটের সাহায্যে দ্ৰুতগতির ভ্ৰমণ সম্ভব বলে চ্যাং ডায়াজ মনে করেন। তিনি বলেন, বিদু্যৎ ব্যবহার করে হাইড্ৰোজেন, মিলিয়াম, কিংবা ডিউটেরিয়ামের মতো জ্বালানিকে প্লাজমা গ্যাসে পরিণত করা যাবে এবং ওই গ্যাস তিনি তার উদ্ভাবিত রকেটে ব্যবহার করবেন।

ওই গ্যাস উত্তপ্ত হবে ২ কোটি ডিগ্ৰি ফারেনহাইট বা ১ কোটি ১১ লাখ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস। ম্যাগনেটিক ফিল্ড ব্যবহার করে ওই প্লাজমা গ্যাসকে নিয়ন্ত্ৰণ করে রকেটটি পরিচালিত হবে। প্ৰতি সেকেন্ডে এর গতি হবে ৩৫ মাইল বা ৫৫ কিলোমিটার। আর এ গতির কারণেই রকেটটি মাত্ৰ ৩৯ দিনে মঙ্গলগ্ৰহে পৌঁছতে পারবে। কক্ষপথের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্ৰহের মধ্যে দূরত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে।

মঙ্গলগ্ৰহ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে থাকে তখন এ দূরত্ব ৩ কোটি মাইল বা ৫ কোটি কিলোমিটার এবং সবচেয়ে দূরে থাকার সময় এ দূরত্ব ২৫ কোটি মাইল বা ৪০ কোটি কিলোমিটার। রকেটের নকশা থেকে শুরু করে ইতিমধ্যে অনেক কাজই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে চ্যাং ডায়াস তাঁর মিশনকে সফল করে তোলার জন্য বেসরকারি প্ৰতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফাৰ্মের সাথে কথাবাৰ্তা হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে তিনি তাঁর হাইটেক ভিএএসআইএমআর রকেট অচিরেই মঙ্গলগ্ৰহে পাঠাতে পারবেন বলে আশা প্ৰকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন