কলকাতা : বাড়ি থেকে বেরিয়ে চেতলা মেইন রোডে উঠতেই ডান দিকের ফুটপাতে ছিল দেবদারু গাছটা। গত ঘূর্ণিঝড় আমফানের ( Cyclone Amphan ) তীব্র দাপটে উপড়ে যায় গাছটি। স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হয়েছিল কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal corporation ) মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের ( Firhad Hakim )। শুধুমাত্র কলকাতাজুড়েই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে এভাবেই ভেঙে পড়েছিল ছোট-বড় আনুমানিক ১৪৭০০-এর কিছু বেশি গাছ।
বৃক্ষ প্রতিস্থাপনের কথা পুরমন্ত্রীর মাথায় আসে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। তারপর শহরে একে একে শুরু হয় ভেঙে পড়া গাছের প্রতিস্থাপনের কাজ। চেতলার ফুটপাতের দেবদারুটাকেও পুনঃস্থাপিত করা হয়। গত এক বছরে অবশেষে, সেই ‘ভাঙা’ গাছে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বর্ষার জল পেয়ে নতুন করে কচি সবুজ পাতায় ভরেছে গাছটি। যা দেখে এক অন্যরকম অনুভূতি ফিরহাদের।
তাঁর কথায়, আমার বাড়ির সামনে গাছটা ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে পড়ায় তাকে পুনঃস্থাপিত করেছিলাম। আজকে সেই গাছটি নতুন পাতা গজিয়েছে দেখে মনটা ভরে গেল। মনে হল আমার প্রচেষ্টায় কাউকে পুনর্জন্ম দিলাম। কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation ) সূত্রে খবর, লেক গার্ডেন্স ( Lake Gardens ), সার্দান অ্যাভিনিউ, চেতলা, ভবানীপুর, ই এম বাইপাস ( EM Bypass ) সহ শহরের ১৪-১৫টি পার্ক মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি এবং বেসরকারিভাবে ১৫৬০টি গাছ পুনঃস্থাপিত করা হয়েছে।
এদের মধ্যে বেশিরভাগ জারুল, শিমুল, দেবদারু। কোথাও তিন বছর কোথাওবা দশ বছরের পুরনো গাছ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। যার মধ্যে পুরসভা নিজের উদ্যোগেই প্রায় একশোর কাছাকাছি গাছ লাগিয়েছে। সূত্রে খবর, প্রতিস্থাপিত হওয়া বেশিরভাগ বৃক্ষ বেঁচে গিয়েছে। নতুন করে সবুজ ডাল – পালায় পাতায় ভরেছে বৃক্ষ। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের ( Horticulture Department ) এক আধিকারিকের কথায়, গাছ প্রতিস্থাপনের এর আগেও শহরে হয়েছে।
কিন্তু এত বড় মাত্রায় পুনঃস্থাপিত অভিযান আগে কখনও হয়নি। চিন্তা ছিল কটা গাছ বাঁচবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে বর্ষার জল পেয়ে প্রতিটি গাছেই ধীরে ধীরে ডালপালা গজাচ্ছে। রবীন্দ্র সরোবরে ( Rabindra Sarobar ) ২২০টি গাছ উপড়ে গিয়েছে বা ডাল ভেঙে পড়েছিল। অন্যদিকে, সুভাষ সরোবরেও ৫০টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই লেকে এখনও অবধি ১২০টি গাছ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। গত এক বছরে সেগুলি বেশিরভাগ বেঁচে গিয়েছে।
