নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : বর্ষা নামতেই জলবন্দি কলকাতা ( Kolkata )। ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও একাধিক জায়গা থেকে নামেনি জল। সরকার এখন মনে করছে খাল সংস্কার ( Canal Reform ) দরকার। আজ শনিবার ইএম বাইপাস ( EM Bypass ) সংলগ্ন কেপিটি খাল ও সন্তোষপুর মনি খাল পরিদর্শন করবেন সেচ দপ্তর ও পুরসভার আধিকারিকরা। এই দুটি খাল সংস্কার করতে ১০-১২ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে কলকাতা পুরসভা ( kolkata Municipal Corporation ) সূত্রে খবর।
শুক্রবার নবান্নে ( Nabanna ) রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তরের ( Irrigation Department ) প্রধান সচিব, পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব, কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নিয়ে শহরের খালগুলির বিষয়ে বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে কলকাতায় দুদিনের বৃষ্টিতে যেভাবে দীর্ঘ সময় জল দাঁড়িয়ে ছিল তার জন্য শহরের খালগুলি সবথেকে বেশি দায়ী। সে কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলি সংস্কারের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকার এই সংস্কারের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আর্থিক অনুমোদন দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাল গুলির সংস্কারের কাজ এই বছরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে।কলকাতার মানুষের জল যন্ত্রণার দায় কৌশলে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Rajib Banerjee ) ঘারে চাপিয়ে সরকারকে আড়াল করতে চেয়েছেন, কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।
প্রাক্তন এই দুই সেচমন্ত্রী তৃনমূল ( TMC ) ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে ( BJP ) যদিও তারা মন্ত্রী ছিলেন তৃনমূল সরকারেরই। বর্তমান সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ( Soumen Mohapatra ) আবার আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি এবার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন তবে বর্ষা শেষ হবার পর। বলেছেন, সেচ দপ্তর শহরকে জল যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্ত করতে খাল সংস্কারের কাজ বর্ষা শেষ হলেই শুরু করবে।
আপাতত কলকাতার খালগুলি সংস্কার করা হবে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলির নাব্যতা বাড়াতে আগে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারপর রাজ্যের অন্যান্য জেলার খালগুলি সংস্কার করা হবে।
