Health : মেলবোৰ্নে ( Melbourne ) অস্ট্রেলিয়ান হেলথ অ্যাণ্ড মেডিক্যাল রিসাৰ্চ কংগ্ৰেসে ( Australian Health and Medical Research ) এক গবেষক জানিয়েছেন, এমন দিন হয়তো খুব কাছেই যখন চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস ( Diabetes ) থেকে বাঁচতে এবং কোলেসটেরলের মাত্ৰাধিক্য কমাতে দিনে একটা করে আম ( Mango ) খেতে বলবেন। এই সম্মেলনেই আমে মলাশয় এবং স্তন ক্যানসার রোধী, ক্যানসার কোষ ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে জানানো হয়েছিল। আম খেলে যৌন উদ্দীপনা বাড়ে। আমে থাকা ট্ৰিপটোফান ( Tryptophan ) সুখসঞ্চারী সেরোটোনিন হরমোনের ( Serotonin Hormone ) উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
আমে ম্যাগনেফারিন ( Mangiferin ), ক্যাটিছোল অক্সিডেজ ( Catechol oxidase ) এবং ল্যাকটোস ( Lactase ) উৎসেচক থাকে। এরা হজমে সাহায্য করে। অন্ত্ৰের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে। আম শরীর থেকে বিষবর্জ্য সাফ করে। আমে প্ৰচুর পটাসিয়াম থাকে, তাই আম উচ্চরক্তচাপে ভোগেন যাঁরা, তাঁদের জন্য ভালো। আমে থাকে তিনটি বিশ্বস্বীকৃত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। সেগুলি হলো ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম। এরা হাৰ্টের ব্যামো, ক্যানসার, ডায়াবেটিসের ভোগান্তি হওয়া আটকাতে পারে।
পাকা আমে প্ৰচুর ভিটামিন এ থাকে। রাতকানা রোগে যাঁরা ভোগেন, তাঁদের জন্য এই ভিটামিন এ খুব জরুরি। কোলেসটেরলের মাত্ৰাধিক্য কমে আম খেলে। রক্তাল্পতার ( Anemia ) রোগীদের জন্য আম ভালো। আমে আছে ক্যানসাররোধী ফেনাল উপাদান, যেমন কুয়ারসেটিন, আসসোকুয়ারসিট্ৰিন, অ্যাসট্ৰাগালিন, ফিসেটিন, গালিক অ্যাসিড এবং মিথাইল গালাট। পিত্তথলির ক্যানসার ( Gallbladder cancer ) রোধ করতে পারে আম। ক্যানসারগ্ৰস্তদের শুশ্ৰূষা করে।
গরমে কাঁচা আম সেদ্ধ শরবত খেতে হয় জিরের গুঁড়ো দিয়ে। দিনে ২-৩ বার খেয়ে গেলে শুধু গরমভাবই কাটে না, রৌদ্ৰরোষের ছোবল এড়ানো যায়। কাঁচা আম রক্তবহা নলিগুলোর ইলাসট্ৰিসিটি তথা স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে দেয়। নতুন রক্তকোষ গঠনে সাহায্য করে। আয়রন শোষণের তৎপরতা বাড়িয়ে তোলে। টিবি, অ্যানিমিয়া, কলেরা, আমাশয়ের বিরুদ্ধে প্ৰতিরোধ গড়ে। পাকা আম দুধে মিশিয়ে খেলে চোখের জ্বলুনি, চুলকানি, রাতকানা রোগে শুশ্ৰূষা মেলে।
সয়াবিনের দুধের সাথে আম নিয়মিত খেলে ওজন কমে। দিনে তিনবার করে টানা একমাস খেতে খেতেই ওজন কমছে বোঝা যায়। কাঁচা আমে থাকা থাকা বিভিন্ন অ্যাসিড পিত্তরসের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে অন্ত্ৰ এবং লিভারকে সুরক্ষা দেয়। আমচুর ডিসপোপসিয়া তথা ধারাবাহিক অজীৰ্ণ রোগে আঁটি পুরো গড়ন পায়নি এমন কচি আমের সঙ্গে হলুদ এবং মধু মাখিয়ে জারিত করে খাওয়া উপাকারী। পাকাই হোক আর কাঁচা, আমের সুগার শরীর সহজেই আত্মস্থ করে।
তাই ডায়াবেটিকদের আম খাওয়ায় মানা নেই। মাসিকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে আম। কফকষ্টে যাঁরা ভোগেন তাঁদের জন্য পাকা আম উপকারী। আম রক্ত শোধন করে। ১০০ গ্ৰাম পাকা আমে বিটা ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ থাকে ২৭৪৩ মাইক্ৰোগ্ৰাম। ভিটামিন সি ১৬। থিয়ামিন ০.০৮। রাইবোফ্ল্যাভিন ০.০৯, নিয়াসিন ০.০৯, পটাসিয়াম ২০৫। ম্যাগনেসিয়াম ২৭০। সোডিয়াম ২৬। কপার ০.১১। জিংক ০.২৭। ক্ৰোমিয়াম ০.০০৬। সালফার ১৭। ক্লোরাইড ৩। অক্সালিক অ্যাসিড ২৬। সবই মিলি গ্ৰামে। পাকা আমে লাইসিন, ট্ৰিপটেফান, মেথিওনিন- এই তিন অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যথাক্ৰমে ৮৩০, ১৩০ এবং ০.৭০।
