নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ঐতিহ্যশালী নিউমার্কেট ( New Market ) বা হগ মার্কেটের ( Hogg Market ) আমূল সংস্কারের হাত দিয়েছে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ( Jadavpur University )। তবে ইতিমধ্যে প্রাথমিক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিউ মার্কেটের পুরনো ভবনে যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। পুরনো আমলের ছাদ এবং বিম যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় ১৪৭ বছরের পুরনো এস এস হগ মার্কেট। নিউ মার্কেট নামেই অধিক পরিচিত।
নিউ মার্কেটের সংস্কার করা হলেও হগ মার্কেটের পুরনো অংশে হাত দেওয়া হয়নি। এবার সেই হগ মার্কেটের ( SS Hogg Market ) পুরনো অংশের সংস্কারে হাত দিতে চলেছে পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে এসএস হগ মার্কেটের জ্যামিতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ হচ্ছে। যার আভিধানিক অর্থ ‘ডিফর্মেশন সার্ভে’। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই দেওয়ালগুলির অবস্থা বা মার্কেটের আর্চগুলির জ্যামিতিক চরিত্রের ধারণা পাওয়া যায়।
কাঠামো কতটা সুসংহত অবস্থায় রয়েছে, কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে কিনা, তা বোঝা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ মার্কেট তৈরির সময়ে ‘ফ্ল্যাট রুফ’ বা এখনকার মতো ছাদ তৈরির রীতি ছিল না। কারণ তার জন্য কংক্রিট, বিম, টাইলসের প্রয়োজন পড়ত। ফলে কংক্রিট না থাকায় সম্ভবত চুন-সুরকি দিয়েই নিউ মার্কেটের ‘সিলিন্ড্রিকাল ভল্ট রুফ’ বা নলাকৃতি কাঠামোর ছাদ তৈরি হয়েছিল। ছাদের বিভিন্ন অংশ সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি গত সপ্তাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা মার্কেট পরিদর্শন করেন। এনিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন বিভাগের ( Department of Construction, Jadavpur University ) অধ্যাপক বিশ্বজিৎ সোমের সঙ্গে আমিরুদ্দিন ( ববি ) বৈঠক করেন। আমিরুদ্দিন জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ সোমের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ৪ মাসের মধ্যে এই কমিটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে। যে রিপোর্টের ভিত্তিতে সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে।
কি ধরনের উপকরণ দিয়ে সংস্কার হবে বা কতদিন সময় লাগবে তার সবটাই জানাবে সমীক্ষা-রিপোর্ট। একইসঙ্গে ফুটনানি চেম্বারেরও সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে ফুটনানি চেম্বার সংস্কারের জন্য রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এক কর্তা বলেন, লকডাউনের সময়টাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখন মার্কেট অল্প সময়ে খোলা থাকছে। এই সুযোগে কাজটা কিছুটা এগিয়ে যাবে। পুরনো এবং নতুন বিল্ডিং মিলিয়ে ৩০০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। মূলত রাতে কিংবা দোকান বন্ধ থাকাকালীন সময়েই সংস্কারের কাজ করা হবে।
