Bantala : আজও সরানো গেল না বাইপাসের ট্যানারি, ভুগছে লক্ষ লক্ষ মানুষ

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : একটু বাড়তি বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস ( Eastern Metropolitan Bypass – EM Bypass )। একদিকে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী এলাকার ট্যানারি থেকে নির্গত জঞ্জালে ভরছে নিকাশি নালা। যার জেরেই এই বিপত্তি। ট্যানারি সরিয়ে ফেলতে পারলেই সমস্যার সমাধান হবে, জানাচ্ছে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। পাশাপাশি, ভূগর্ভস্থ নিকাশির কাজ শেষ হলেও দুর্ভোগের থেকে কিছুটা সুরাহা মিলবে।

বাইপাসের কয়েকটি অঞ্চলে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। বিশেষত ভিআইপি, তপসিয়া, মাঠপুকুর, চায়নাটাউন, পঞ্চান্নগ্রাম, টেংরা, সায়েন্স সিটির ( Science City ) মত অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ওই অঞ্চলে ট্যানারির জঞ্জাল নিকাশি নালা ভরিয়ে দিচ্ছে। বারবার নালা পরিষ্কার করেও কাজ হচ্ছে না বলেই অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের ( Sewerage Department ) দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য তারক সিং।

তিনি বলেন, ৯টি ওপেন নালা ডিসিল্টিং মেশিন ওখানে প্রায় রোজ কাজ করে। কিন্তু, প্রতিদিন চামড়ার জঞ্জালে নালা ভরে যাচ্ছে। ওদের আলাদা জয়গা বানতলায় ( Bantala ) দেওয়া হলেও ওরা কেউ কেউ যায়নি। ফলে, বার বার নালা পরিষ্কার করিও কাজ হচ্ছে না। ড্রেন উপচে পড়ে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জল রাস্তায় আসছে। এই বিষয়ে তিনি পুরমন্ত্রী তথা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের ( Firhad Hakim ) সঙ্গে কথা বলেছেন বলেই জানিয়েছেন তারকবাবু।

কলকাতা পুরসভার দাবি, মূল সমস্যা তৈরি করেছে স্থানীয় ট্যানারি শিল্প ( Tannery Industry )। বানতলায় তাঁদের পৃথক ব্যবস্থা হয়েছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কারখানা স্থানান্তরিত করেছেন। ইতিমধ্যেই, বাইপাসে কেইআইআইপি ( KEIIP ) নিকাশি নালার কাজ শেষ করেছে। ভূগর্ভস্থ ড্রেন ছিল না। পুরোটাই সারফেস ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খোলা ড্রেন। কলকাতা পুরসভাও ওই অঞ্চলের কিছু জায়গার ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা তৈরির মাস্টারপ্ল্যান হতে নিয়েছে।

কিন্তু লকডাউনে সেই নির্মাণকাজ আটকে পড়ে। সেক্ষেত্রে ট্যানারিগুলি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি নির্মীয়মান ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কাজ সম্পূর্ণ করতে পারলে পুরোপুরি জমা জলের সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি মিলবে। যদিও, বাইপাসের রাস্তা পার্শ্ববর্তী জমির তুলনায় উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলেও জলমগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলে পুর-কর্তাদের একাংশের দাবি। মেট্রোপলিটন, মাঠপুকুর সংলগ্ন জল পার্শ্ববর্তী খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অন্যদিকে, সায়েন্সে সিটি, তিলজালা, পঞ্চানগ্রামের নিকাশির জল সংশ্লিষ্ট আম্বেদকর ব্রিজের তলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিদ্যাধরী নদীতে পড়ে। ওই অঞ্চলে বর্তমানে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু সেই পাম্পিং স্টেশন দিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জল বার করা সম্ভব নয়। নতুন পাম্পিং স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা করে ওঠা সম্ভব হয়নি।

বিগত কয়েক বছরে জলের স্বাভাবিক স্রোতের মুখে বেশ কয়েকটি হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। ফলে জল সঠিক স্রোতে বয়ে যেতে পারছে না। সেই সমস্যার সমাধানে ওই অঞ্চলে আধুনিক নিকাশি নালার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন