নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : আগামী নতুন বছরের শুরুতেই খুলতে চলেছে টালা ব্রিজ ( Tala Bridge )। দীর্ঘ দেড় বছর যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের শেষে প্রায় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। শনিবার সেতুর কাজকর্ম পরিদর্শন করতে যান কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক অতীন ঘোষ ( Sri Atin Ghosh )। পূর্ত দপ্তর ( PWD ) সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে উত্তর কলকাতার সঙ্গে উত্তর শহরতলীর সংযোগ রক্ষাকারী এই লাইফ লাইন।
নতুন সেতু তৈরি হয়েছে চার লেনের। খরচ বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালে লকডাউনের সময় নতুন ব্রিজ তৈরীর কাজে হাত দেয় পূর্ত দপ্তর। কাজ করছে এক বহুজাতিক নির্মাণ সংস্থা। জুন মাস থেকে সেতু তৈরীর কাজ শুরু হয়। তার আগে অবশ্য গত বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুরনো টালা ব্রিজ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। মাঝে লকডাউনের জন্য কিছুদিন কাজ আটকে যায়। তারপর আবার গত বছর পয়লা বৈশাখ থেকে কাজ শুরু হয়।
জুনের মধ্যে পুরো ব্রিজ ভেঙে ফেলা হয়। তারপর শুরু হয় নবনির্মাণ। মাজেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর শহরের সমস্ত উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজে হাত দেয় নবান্ন ( Nabanna )। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee ) তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( Alapan Bandyopadhyay ) মাথায় রেখে একটি কমিটি তৈরি করে দিয়েছিলেন। পোস্তা ব্রিজের ( Posta Bridge ) মত টালা ব্রিজ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। রাইটস সমীক্ষা করে জানিয়ে দেয়, পুরনো ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ তৈরি করা শ্রেয়।
যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে পুরনো টালা সেতু( Tala Bridge )। তারপরেই তৎপর হয় নবান্ন। ভাঙার জন্য ডাকা হয় টেন্ডার। আবার নতুন ব্রিজ তৈরির জন্য পৃথক টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। শুধু ব্রিজ ভাঙতেই খরচ হয়েছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অন্তত ১৭৫ জন থেকে ৩০০ জন শ্রমিক যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে। বিশেষ করে লকডাউনের সময় গত বছরের কয়েক মাস দ্রুত কাজ এগিয়েছে।
তখনই প্রায় সামগ্রিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়ে গিয়েছিল। টালা সেতু ভেঙে দেওয়ার পর ওই রাস্তার যান চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ জারি করে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। অন্যান্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। এখনও সেটাই চলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ( Chandrima Bhattacharya ) নির্মীয়মান এই সেতুর পরিদর্শনে যাবেন বলে খবর।
