নজিরবিহীন ঘটনা, ঘুষ বন্ধে হোর্ডিং দিতে হলো শ্মশানে

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনাকালে মৃতদের পরিবারের থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে এবার আরও নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবারই ৫ কর্মীকে বরখাস্ত ( Suspend ) করা হয়েছে। এবার আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন শ্মশানে ব্যানার বা হোডিং লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ ( Health Department – KMC )। কলকাতা কর্পোরেশন ( Kolkata Municipal Corporation – KMC ) সূত্রে খবর, স্বাস্থ্য বিভাগে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তোলাবাজি রুখতে কলকাতার সবকটি শ্মশানে ( Crematorium ) লাগানো হবে হোর্ডিং।

যাতে লেখা থাকবে, দেহ সৎকারের জন্য কাউকে টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা চাইলে কর্পোরেশনকে জানানোর আবেদন। শববাহি গাড়ির নির্দিষ্ট করে দেওয়া ভাড়ার থেকে একটাকাও বেশি দিতে হবে না। কেউ যদি টাকা ছাড়া দাহ কাজে নারাজ হন সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন মৃতের পরিবার। সেখানে থাকবে পৌর আধিকারিক থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রশাসকমন্ডলীর সদস্যের ফোন নম্বর।

তাঁদেরও ফোন করে অভিযোগ জানানোর যেতে পারে। শ্মশানের সব কর্মীকে দেওয়া হবে অ্যাপ্রন বা বিশেষ পোশাক যাতে শ্মশানকর্মী কে তাঁদের সহজে চিহ্নিত করা যায়। করোনা ( Corona ) পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পর থেকেই মানুষের অসহায়তার সুযোগ তুলছে বেশ কিছু অসাধু স্বাস্থ্যকর্মী। কখনও শবদেহ গাড়ির চালক বা হেলপারদের ( Driver and Helper) বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। আবার কখনও শ্মশানের ডোমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হচ্ছে।

এই কর্মীদের অত্যাচারে ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল সাধারণ নাগরিকরা। চাপ বাড়ছিল কর্তৃপক্ষের উপরে। প্রায় দিন এমন অভিযোগ আসছে কলকাতা কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে। অবশেষে ঘুম ভেঙে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার ৫ কর্মীকে মৃতের পরিবারের থেকে টাকা নেওয়ার অপরাধে বরাখাস্ত করা হয়েছে। এবার কর্তৃপক্ষ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিল। তবে এসবের পরেও কতটা তোলাবাজি আটকানো যাবে তা নিয়ে পৌর আধিকারিকদের মধ্যে সংশয় আছে।

এক আধিকারিক বলেন, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে দীর্ঘক্ষণ শ্মশানে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হচ্ছে বলে অনেক পরিবারের সদস্যরাই ডোমদের টাকার অফার করছেন। তখন সেই কর্মীরাও লোভে পড়ে টাকা নিয়ে নিচ্ছেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা দরকার। সেটা না হলে পুরসভা বিধি নিষেধ জারি করলেও এই ধরনের তোলাবাজি কখনওই বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন