রানার প্রতিবেদন : সেলফি তোলা একটা সময়ে ছিল আৰ্ট, তারপরে ফ্যাশন আর তারপরে সেটা যেই না প্যাশনে বদলে গেল তা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি শুরু হল যে সেলফি থেকে শুরু হয়ে গেল সেলফাইটিস রোগটি ( Selfitis Disease )। দিনে নিজের চল্লিশটির বেশি সেলফি নিলে বলা হয় সেই ব্যক্তি সেলফাইটিস রোগে আক্ৰান্ত। এবং এমন সমস্ত বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে কিংবা হিংস্ৰ পশুর সঙ্গে মানুষ সেলফি তুলতে যান, যার ফলে তাদের হয় মৃত্যু কিংবা প্ৰবলভাবে জখম হওয়া অনিবাৰ্য হয়ে ওঠে বিভিন্ন ক্ষেত্ৰে।
সবচেয়ে আশ্চৰ্যের কথা হল এই ঘটনাগুলো অহরহ ঘটে চলা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে কোনও পরিবৰ্তন নেই। কয়েকদিন আগেই হয়েছে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ফেসবুক টাইমলাইনে নিজের অন্যরকমের সেলফি দেওয়ার বহুদিনের ইচ্ছে লরা স্যানসোন নামের এক যুবতীর। আর সেজন্যই তিনি গিয়েছিলেন কুকুরের সঙ্গে সেলফি তুলতে। ঘটনাটি আৰ্জেন্টিনার ( Argentina ) টুকুমানের। কিন্তু কুকুর তাঁকে এমন মারাত্মকভাবে জখম করেছে যে তখন নিজের সারা শরীর থেকে রক্তগঙ্গা বইছে দেখে ওই যুবতীর সেলফি তোলা মাথায় উঠে যায়।
নিজের সুন্দর মুখের তো বারোটা বেজেইছে লরার, কিন্তু তার থেকেও তিনি আশ্চৰ্য হয়েছেন যে কুকুরটি তাঁকে এমনভাবে জখম করেছে সে তার পোষ্য। অ্যালসেশিয়ান নামের একটি জার্মান শেফাৰ্ড অনেকদিন ধরেই তার পোষ্য। তাকে নিয়ে খাওয়া, এক বিছানায় শোওয়া সবকিছুই করে লরা। এরকম একদিন খাটে নিয়ে খেলতে খেলতে ওই যুবতীর ইচ্ছে হল ওই কুকুরের সঙ্গে সেলফি তুলবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ক্যামেরা তাক করে পোজ দেওয়ার জন্য রেডি।
কিন্তু কুকুরটি কিছু বুঝে উঠতে না পেরে হিংস্ৰ হয়ে ওঠে। আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে লরার মুখের উপর, টেনে, কামড়ে ছিঁড়ে দেয় মুখের চামড়া, ততক্ষণে মুখের রক্তে বিছানা-বালিশ সব ভিজে গেছে। আত লওরাকে বাড়ির লোক সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মুখে মোট চল্লিশটি সেলাই পড়ে। তবে এতেই-বা কী এসে যায়।
লরা স্যানসনের ক্ষতবিক্ষত চেহারা আর কুকুরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আঘাত খুব গভীর ছিল। সেলাইতে কাজ না হলে মুখে প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হতো। তবে নেটিজেনরা সকলেই লরার দ্ৰুত আরোগ্য কামনা করছেন।
