বিজেপি বিরোধী হাওয়া নিজেদের পালে টানতে এবার ত্রিপুরায় ঝাঁপাবে তৃনমূল

|

রানার ডেস্ক : ২০১৩ বিধানসভা নির্বাচনের পরই হাওয়া ঘুরতে শুরু করে ত্রিপুরায় ( Tripura )। পশ্চিমবঙ্গে যেমন ২০০৬ এর বিধানসভা ভোটে সিপিএম সাফল্যের রেকর্ড গড়লেও সেই সাফল্যের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ব্যর্থতার বীজ। ত্রিপুরায় ১৩ ভোটে নজর কারা সাফল্য পেয়ে মানিক সরকারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফিরেছিল বামফ্রন্ট। সেই ভোটে মাত্র ৬ টা আসন পেলেও কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট। ফলে ভোটের নিরিখে নেহাৎ দুর্বল ছিল না বিরোধী পক্ষ।

ত্রিপুরায় বাম বিরোধী হওয়া তুলতে গিয়ে কংগ্রেসকে বারবার ধাক্কা খেতে হয়েছে জাতীয় স্তরে বাম-কংগ্রেস সখ্যতার জেরে। ফলে ত্রিপুরার মানুষ বাম বিরোধিতার প্রশ্নে কংগ্রেসকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি। জাতীয় স্তরে বাম-কংগ্রেস জোট তখন নেই, ফের যখন ঘর গোছাতে শুরু করলো কংগ্রেস, তখন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে হারাতে ২০১৬ সালে ফের একমঞ্চে চলে এলো বাম-কংগ্রেস। ফের ব্যাকফুটে চলে গেল ত্রিপুরা কংগ্রেস। ১৬ ভোটে জিতলেন মমতা।

ব্যাপক সাফল্য পেয়েই ঘোষণা করলেন এবার তারা ঝাপাবেন ত্রিপুরায় সিপিএমকে উৎখাত করতে। দায়িত্ব দেয়া হলো মুকুল রায়কে। মুকুল রায় ( Mukul Roy ) ত্রিপুরা পৌঁছতেই ব্যাপক সাড়া পেলেন সেখানে। হুড়মুড় করে ভাঙতে শুরু করলো কংগ্রেস। রাজ্যে কংগ্রেসের প্রধান মুখ সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে অসংখ্য কংগ্রেস নেতা কর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে। এক কথায় তখন ত্রিপুরায় ঘোর বাম বিরোধী হাওয়ায় তরতর করে এগুতে শুরু করলো তৃণমূলের তরী।

এরপর ফের পট পরিবর্তন। রহস্যজনক কারণে গা ছাড়া দিয়ে বসলো তৃনমূল। আবার নেমে এলো শূন্যতা। আমাদের অভিযোগ, বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই, ত্রিপুরায় বিজেপির জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছে তৃনমূল। তৃনমূল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায়, সেই শূন্যতা পূরণ করতে ত্রিপুরায় ঝাঁপিয়ে পড়লো কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দেশজুড়ে তখন জনপ্রিয় মুখ মোদি। ত্রিপুরার মানুষ বিশ্বাসযোগ্য বাম বিরোধী হিসাবে আকড়ে ধরলো বিজেপিকে।

তারপরের ঘটনা সকলের জানা। এবার বঙ্গে বিজেপিকে হারিয়ে বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃনমূল। ২০১৬ মতই এবার তারা আবার ঘোষণা করেছে, বঙ্গের বাইরে ক্ষমতার জন্য ঝাঁপাবে তারা। তৃনমূল সূত্রের খবর তাদের এখন প্রধান লক্ষ্য ত্রিপুরা। ইতিমধ্যে ত্রিপুরায় সরকার বিরোধী হওয়া বেশ জোরালো হতে শুরু করেছে। যার সুযোগ নিয়ে আবার নিজেদের ভীত শক্ত করতে শুরু করেছে সিপিএম।

এই অবস্থায় তৃণমূলের আগমনে সেই বিজেমূল-তত্ত্ব দেখছে বামেরা। কারন, ওখানে বিজেপিকে রক্ষা করতে বিরোধী ভোট ভাগাভাগির খেলায় নামবে তৃনমূল। দেয়া-নেওয়ার মাধ্যমে এই দুই দল নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করেই রাজনীতি করে বলে অভিযোগ বামেদের।

আরও পড়ুন