নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : প্রচুর খরচ করে সংস্কার হয়েছিল দ্বিশতক প্রাচীন টাউনহলের ( Kolkata Town Hall )। উদ্বোধনের আগেই এবার ভেঙে পড়ছে দেওয়ালের নকশা। খসে পড়েছে চাঙ্গর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে কলকাতা পুরসভায় ( Kolkata Municipal Corporation )। সংস্কারের দায়িত্বে ছিল পূর্ত দপ্তর ( Public Works Department )। পিউড-র মুখ্য ইঞ্জিনিয়ারকে ( PWD Chief Engineering ) কড়া চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকদের একাংশের দাবি, কাজের উপকরণের গুণমান খারাপ ছিল বলেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে।
স্বাভাবিকভাবেই পূর্ত দপ্তরের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সংস্কারের নামে বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলে হেরিটেজের চরিত্র বদল ও কারুকার্য, স্থাপত্য নষ্ট করার জেরেই এই অবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তণ নগর পরিকল্পক দীপঙ্কর সিংহ ( Dipankar Singh )। ২০১৭ আইআইটি রুরকির ( Indian Institute of Technology Roorkee ) পরামর্শ অনুসারে কলকাতা পুরসভা রাজ্য পূর্ত দপ্তরকে সংস্কারের দায়িত্ব দেয়।
সংস্কারের নামে কাঠের মেঝে ভেঙে ঢালাই করা থেকে স্তম্ভগুলি যথেচ্ছ ভেঙে নকশাবদল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েক সপ্তাহ পরেই উদ্বোধন হবার কথা ছিল নবনির্মিত টাউন হলের। কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে বলে খবর আসে। বুধবার রাতে দেওয়ালের গায়ের মোটিভ বা কাঠের নকশা ভেঙে পড়ে। বাইরের দেওয়ারের কিছু অংশ খসে পড়েছে।
তারপরেই পূর্ত দপ্তরকে চার পাতার করা চিঠি ধরানো হয়েছে। কোটি টাকার উপরে সংস্কার কাজে খরচ হয়েছে। লক্ষাধিক টাকা কাঠের কাজে। তারপরেও এই ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্দ কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কিভাবে ঘটল।
কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন নগর পরিকল্পক দীপঙ্কর সিংহ বলেন, টাউন হলের বয়স প্রায় ২০০ বছরের বেশি। বাম আমলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকটি অংশ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জেরে সুরক্ষিত ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) আমলের প্রথমদিকের কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হলেও বিগত ছয়-সাত বছর ধরে সব বন্ধ। তারপর ২০১৭ সালে প্রচুর টাকা খরচ করে সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়। ঠিক হয় সামগ্রিক সংস্কার হবে।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সবটাই জোড়াতাপ্তি মার্কা কাজ হয়েছে। বহু বছর পুরোনো কাঠের কাজ। এক সময় নিয়মিত কেমিক্যাল দেওয়া হত। যেন উইপোকার কবলে না পড়ে। অন্য দিকে ছাদের ওয়াটার পুটিং আর বাইরের দেওয়ালে প্লাস্টার এবং রঙ প্রতিবছর হয়নি। কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা মনে করছেন, সংস্কারের নামে যথেচ্ছভাবে কারুকার্য, স্থাপত্য ভেঙে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বদলে গেছে হেরিটেজ চরিত্র। সঠিক গুনমানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে কাজ করা হয়নি। যার জেরেই মুখে চুনকালি পড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
