নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : যত্রতত্র বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়েছে প্রচুর। বছরের পর বছর ধরে জোর দেওয়া হয়নি রক্ষণাবেক্ষণে। ফলে যা হওয়ার ছিল তাই হয়েছে। কোথাও চুরি হয়েছে ফিডার বক্সের ঢাকনা, কোথাও চুরি গিয়েছে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভের স্লট। যার জেরে ইলেকট্রিক তার বাতিস্তম্ভ থেকে বেরিয়ে রয়েছে যত্রতত্র। তৈরি করেছে মৃত্যুফাঁদ। বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটেছে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা। এবার টনক নড়েছে কলকাতা পুরসভার ( KMC )।
কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad hakim ) আলোক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, এবার বাতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতে বিশেষ জোর দিতে হবে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন ল্যাম্পপোস্ট লাগানো চলবে না। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চুরি রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আলোক বিভাগ ( Lighting Department ) সূত্রে খবর, শহরজুড়ে নজরদারি চালাতে বরো ও ওয়ার্ড ভিত্তিক আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নজর দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন নিচু অঞ্চলে।
যেখানে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে। এক আধিকারিক বলেন, আমাদের নজরে এসেছে হরিশ মুখার্জি রোড, ডিএল খান রোড, ক্যাথেড্রাল রোড, ল্যান্সডাউন রোড, খিদিরপুর রোড, ডায়মন্ডহারবার রোড, ডেন্ট মিশন, চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, এপিসি রায় রোডে বেশি করে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ আসে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় এমন আশঙ্কাজনক বাতিস্তম্ভ মেরামত করা হয়েছে।
বেহালা, গার্ডেনরিচ, আলিপুর, খিদিরপুরের মতন বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক বছরে একাধিক বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই ধরনের ঘটনা এড়াতে ওই সমস্ত অঞ্চলের লাইটপোস্ট এবং ফিডার বক্সে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এক কর্তা বলেন, যে সব জায়গা ফিডার বক্স মাটির সঙ্গে লাগোয়া সেখান থেকে একটু উপরে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যাতে বর্ষার সময় আর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার মত প্রয়োজন না হয়।
সব জায়গাতে অবশ্য সেটা করা সম্ভব নয়। সেখানে প্রয়োজনে প্লাস্টিক দিয়ে পেঁচিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে তার বেরিয়ে রয়েছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। শহরজুড়ে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকেই আসে। ফিরহাদ হাকিম বলেন, দুষ্কৃতীদের আটকাতে চালানো হবে নজরদারি। পুলিসকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
আলোক বিভাগের আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, রক্ষনাবেক্ষণ এমনিতেই করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চুরি এখনও রোখা যায়নি। গত মাসের আজ ভবনের সামনে অতিবৃষ্টিতে জল জমে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একজন মারা গিয়েছিল। সেখানেও ফিডার বক্স খোলা ছিল। বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ সামনে আসে। তাই নজরদারি আরও শক্তপোক্ত করা হচ্ছে।
