রানার ডেস্ক : ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বিদেশ থেকে কালো টাকা দেশে ফেরেনো হবে। পাঁচ বছর কেটে গেলেও সেই লক্ষ্যে এখনও সফল হয়নি মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, সরকার এখনও সফল হয়নি মানে এই নয়, সরকার হাতে হাত রেখে বসেছিল। এই পাঁচ বছর ধরে সরকার সুইস ব্যংক থেকে কালো টাকা ফেরাবার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে গেছে।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এখন বিষয়টা ক্রমশ দিনের আলোর মুখ দেখতে চলেছে মনে করছেন তারা। প্রায় ৫০ জন ধনকুবেরের ব্যংক আক্যাউন্টের বিশদ তথ্য খুব দ্রুত হাতে পেতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভবিষ্যতে এই আক্যাউন্টগুলির যাবতীয় অর্থ কেন্দ্রের কব্জায় চলে আসতে পারে, এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল। অসংখ্য ভারতীয়র ধনী ব্যক্তির ব্যংক আক্যাউন্ট আছে সুজারল্যান্ডে। এখানে অর্থ রাখলে সুইস সরকার সেই আক্যাউন্টের গোপনীয়তা রক্ষার গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।
একারণেই সারা বিশ্বের অসংখ্য ধনকুবের এখানে আক্যাউন্ট খুলে রেখেছেন। অনেকে দুর্নীতি করে পাওয়া কিংবা জমানো কালো টাকা নিরাপদে রাখার জন্যও এই সুইস ব্যংক আক্যাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন। এমন বহু উদাহরণ আছে, ঘুষ বা অন্যান্য দুর্নীতির সাহায্যে উপার্জন করা কিংবা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে কালো টাকার মালিক হওয়া এমন বহু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করে কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে, বিদেশে গিয়ে সেই আক্যান্টের টাকায় বিলাসবহুল জীবন কাটান।
২০১৪ সালে বিজেপি দাবি করেছিল, বিদেশে গচ্ছিত থাকা কালো টাকার পরিমান এতটাই যে সেই টাকা ফেরত এনে যদি ভারতবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যায় ,তবে এক একজন ভারতীয় ১৫ লক্ষ টাকা করে পেতে পারেন। শেষপর্য্ন্ত কালো টাকা ফেরৎ না আসায় বিরোধীদের প্রবল কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপিকে। এবার ক্ষমতায় এসে কার্যত কোমর বেঁধেই মাঠে নেমেছে সরকার , যাতে কালো টাকার দ্রুত নাগাল পেতে যাবতীয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।
সূত্রের খবর, এমন ৫০ টি ধনকুবেরের আক্যাউন্ট-এর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নাম পরিচয় রীতিমতো সন্দেহজনক। এদের উপার্জনের উৎসও রীতিমতো সন্দেহজনক। এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে, যখন সুইস সরকার যখন নোটিস দিয়ে জানতে চেয়েছে, তাদের আক্যাউন্টের বিবরণ সরকার ভারতের হাতে তুলে দিতে চায়, চাইলে তারা একমাসের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।
এরকম ৫০ জন আক্যাউন্টধারীর হদিস পাওয়া গেছে,যারা একমাসের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করেননি। মনে করা চ্যালেঞ্জ করলে পাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে এই ভয়ে তারা চুপ করে আছেন। অর্থাৎ তাদের উপার্জন যে সন্দেহজনক তা স্পষ্ট। আপাতত এই আক্যাউন্টগুলি কব্জা করতে চাইছে ভারত সরকার।
