প্রতিশ্রুতিই সার, আমাফনের ক্ষত মেরামতের গাছ এখনও ফাইলবন্দি

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কথা ছিল লাগানো হবে ৫০ হাজার গাছ। কিন্তু বছর ঘুরে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। প্রকাশ্যে পুরসভার দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যাই বলুক না কেন আধিকারিকদের খাতায়-কলমে তথ্য বলছে, লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও ছোঁয়া যায়নি। কলকাতা পুরসভার ( KMC ) উদ্যান বিভাগ ( Department of Horticulture ) সূত্রে খবর, গতবছর জুলাইতে অরণ্য সপ্তাহ সহ বছরভর মাত্র ২০-২২ হাজার গাছ লাগানো গিয়েছে।

যার মধ্যে আবার অন্তত ২০০০ গাছ এমন রয়েছে যার প্রতিস্থাপন হয়েছে। গতবছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ( Amphan ) এ শহর কলকাতায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪৭০০ গাছ নষ্ট হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim ) ঘোষণা করেছিলেন, শহরজুড়ে কলকাতা পুরসভা, কেএমডিএ এবং বনদপ্তর ( Forest Department ) মিলিয়ে ৫০ হাজার গাছ লাগানো হবে। প্রথমদিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ( Tree Planting Program ) নিতে কোমর বেঁধে ঝাঁপানো হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে পরবর্তী সময়ে তা ঢিমে তালে চলতে থাকে।

কথা ছিল বিভিন্ন বণিকসভা কলকাতা পুরসভাকে বিনামূল্যে গাছ দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু, তাঁরাও খুব একটা সাহায্য করেনি বলেই জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক বলেন, বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক বোর্ডের সদস্য দেবাশিস কুমার নিজ উদ্যোগে ৫০০০ গাছের ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপর বিভিন্ন এজেন্সির মারফত সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৭০০০ গাছ পাওয়া গিয়েছিল। তার বেশি লাগানো যায়নি।

তাছাড়া গাছ লাগানোর জায়গা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ঝড়ে উপড়ে পড়া একাধিক বড় গাছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চেতলা, নাকতলা, বালিগঞ্জ, সার্দান অ্যাভিনিউ, টালা পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর লেক, বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলি বড় গাছ পরিচর্যা করে প্রতিস্থাপন করা হয়। কৃষ্ণচূড়া এবং রাধাচূড়ার বদলে নিম, দেবদারু, অশোক, বকুল, শিমুল-এই গাছগুলি লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। নেওয়া হয়েছিল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

কিন্তু, দিনের শেষে ৫০০০০ ধরা সম্ভব হয়নি। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবাশিস কুমার বলেন, করোনাকালে এমনিতেই কর্মী অভাব ছিল। তার উপর জানুয়ারি থেকেই বেজে গিয়েছিল ভোটের দামামা। ফলে, সব মিলিয়ে নানা জটিলতায় কাজ এগোয়নি। বছরঘুরে ফের মাস খানেক পরেই অরণ্য সপ্তাহ। আবার শুরু হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। থাকবে পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু বাস্তব বলছে, প্রতিশ্রুতি শুধু মুখেই থাকে। বাস্তবায়িত হয় না।

আরও পড়ুন