রানার প্রতিবেদন : হাইওয়েতে বাস বা বড় ট্ৰাকের সঙ্গে বাইকের মুখোমুখি সংঘৰ্ষের কথা প্ৰায়ই শোনা যায়। আর তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্ৰে বাইক আরোহীর মৃত্যু বা মারাত্মক জখম হয়। সাম্প্ৰতিক একটি সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৫০ শতাংশ দুৰ্ঘটনা ঘটছে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘৰ্ষে আর ১৫ শতাংশ দুৰ্ঘটনার জন্য দায়ী মোটরসাইকেল আরোহীদের বেপরোয়াভাবে দ্ৰুতগতিতে বাইক চালানো ও প্ৰায় ক্ষেত্ৰেই হেলমেট না পরা। পৃথিবীর সব দেশেই বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক, কিন্তু অনেকেই সেই নিয়ম মেনে চলতে চান না।
অনেক দেশে তো প্ৰশাসনের কড়াকড়ি আর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বহু লোক দিবি্য হেলমেট বাইকে ঝুলিয়ে রেখে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর এই দুৰ্ঘটনা সামলাতেই প্ৰযুক্তির দুনিয়াতে নয়া আবিষ্কার স্মাৰ্ট হেলমেট। স্মাৰ্টফোন, স্মাৰ্টওয়াচের পর এবার এল স্মাৰ্ট হেলমেট ( Smart Helmet ), যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেলি’ ( Heli )। পাকিস্তানি গবেষকরা কিছুদিন আগে এটা আবিষ্কার করেছেন। কী বিশেষত্ব এই স্মাৰ্ট হেলমেটের? এটি দুৰ্ঘটনার কবলে পড়া আরোহীকে শুধু যে রক্ষা করবে তাই-ই নয়, অ্যাম্বুলেন্স ডাকতেও সাহায্য করবে এই হেলির সিগন্যাল।
এই হেলমেটে থাকবে অত্যাধুনিক স্পিকার, ব্লু টুথ রিসিভার, জিপিএস ট্ৰ্যাকার ও হাৰ্ট রেট মনিটর। তাই ফোন এলে আলাদা করে ধরতে হবে না, পাশাপাশি মোবাইলে বারবার গুগল ম্যাপ দেখে রাস্তাও ঠিক করার কোনও প্ৰয়োজন নেই। এই হেলমেটের মাথায় লাগানো রয়েছে একটি ক্যামেরা। এই হেলমেট পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় বাঁক নেওয়ার সময়ে অন-অফ করার কোনও প্ৰয়োজন পড়বে না। সবকিছুই স্বয়ংক্ৰিয়ভাবে হয়ে যাবে।
আর বাইক কোনও দুৰ্ঘটনার কবলে পড়লে হেলির এসওএস মোডের মাধ্যমে সরাসরি পরিবার ও অ্যাম্বুলেন্স ( Ambulance ) পরিষেবার কাছে বিপদকালীন ফোন চলে যাবে। তবে এই হেলিকে নিয়ন্ত্ৰণ করতে কোনওরকম কম্পিউটারের দরকার পড়বে না। অবশ্য হেলিই প্ৰথম নয়, ইতিপূৰ্বে ২০১৩ সালেও আরও একটি স্মাৰ্ট হেলমেট বাজারে ছাড়া হয়েছিল, তবে সেটা প্ৰযুক্তিগত দিক থেকে এতটা উন্নত ছিল না।
