রানার প্রতিবেদন : নিজেকে ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম ( Fair And Handsome ) দেখাতে অনেক পুরুষই চান। বলতে গেলে ৯০ শতাংশই চান, কেননা সেই তথাকথিত টল, ডাৰ্ক আর হ্যান্ডসামের যুগ এখন আর নেই বললেই চলে। তাই বলে পুরুষাঙ্গকেও ফরসা করার জন্য আকুতি? হ্যাঁ এটাই থাইল্যান্ডের ( Thailand ) সৰ্বশেষ ফ্যাশন। থাই পুরুষরা সকলেই এখন লিঙ্গ ফরসা করার জন্য যাচ্ছেন হাসপাতালে। লেলাক্স হাসপাতালে ( Lelux Hospital ) করা হচ্ছে সেই কাজটি।
ওই হাসপাতালের মাৰ্কেটিং ম্যানেজার পপল টানসাকুল জানান, মাত্ৰ বছর দুয়েক আগে তাঁদের হাসপাতালে নারীদের জননাঙ্গ ফরসা করার কাজ শুরু হয়। এবং তাতে সাফল্য মেলায় বহু পুরুষই এখন তাঁদের জন্য এই বিষয়টি নিয়ে আগ্ৰহ দেখিয়েছেন। প্ৰায় বছর খানেক হয়ে গেল এখন লিঙ্গ ফরসার কাজও রমরম করে চলছে। এবং তাতে বেশ ভালোমতোই সাড়া পাওয়া গিয়েছে বলেও হাসপাতাল কৰ্তৃপক্ষ খোলাখুলি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ-পূৰ্ব এশিয়ার দেশগুলিতে সানবাৰ্ন বেশি হয় বলে অনেকেই সেই ট্যান তুলে গায়ের চামড়া ফরসা করেন, কিন্তু থাই পুরুষরা যেটা করাচ্ছেন, তা হুজুগের বশে পড়ে দেশটির সৌন্দর্যচেতনার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্ৰশ্ন উঠছে। অনেকের মনেই হয়তো প্ৰশ্ন জাগবে কীভাবে হয় চিকিৎসাটি। উন্নততর লেজার পদ্ধতির মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়। প্ৰথমে লেজারের মাধ্যমে ত্বকের মেলানিনকে ধ্বংস করে তাকে ফরসা করা হয়।
এই পদ্ধতিটি ঝুঁকিহীন নয়, কিন্তু মানুষের প্ৰচেষ্টা সেজন্য কিন্তু থেমে নেই। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ওই পুরো পদ্ধতিটিকে ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে দেওয়া হয়েছে। এবং মাত্ৰ দুদিনেই সেই পোস্ট ১৯ হাজার বার শেয়ার হয়েছিল। থাইল্যান্ডের ওই হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাসে গড়ে ২০-৩০ জন পুরুষ তাঁদের কালো হয়ে আসা লিঙ্গকে ফরসা করান। তবে সামাজিক কারণে যাঁরা চিকিৎসা করান, তাঁদের নাম গোপন রাখা হয়।
শুধু থাইল্যান্ড নয়, দক্ষিণ-পূৰ্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ তথা কম্বোডিয়া, মায়ানমার, ফিলিপাইন্স প্ৰভৃতি দেশ থেকেও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। লিঙ্গ ফরসা করতে মোট পাঁচটি সিটিং দিতে হয়, এবং এতে মোট খরচ পড়ে প্ৰায় ৬৫০ মাৰ্কিন ডলার। লেলাক্স হাসপাতলের মাৰ্কেটিং ম্যানেডার পপলের মতে, সমকামী এবং ট্ৰান্সজেন্ডারদের মধ্যেই এই ফরসা করার একটা প্ৰবণতা মারাত্মকভাবে বাড়ছে।
কেননা তারা শরীরের সমস্ত অংশকে আকৰ্ষণীয় রাখতে চায়। নাম প্ৰকাশে অনিচ্ছুক এরকম এক ব্যক্তি জানান, তিনি যখন সুইমিং করার জন্য পুলে নামেন তখন নিজের ফরসা পুরুষাঙ্গ নিজেই দেখে একটা আলাদা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তবে থাইল্যান্ড সরকার এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে যে ঝুঁকি আছে তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, আদৌ এই চিকিৎসার কোনও প্ৰয়োজন নেই। এবং এর ফলে চিরতরে লিঙ্গের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
এমনকি লিঙ্গ যে আর দৃঢ় ও সঙ্গমক্ষম নাও হতে পারে সেই বিষয়েও সতৰ্কবাতা দিয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, একবার চিকিৎসা শুরু করার পর যদি পুরুষাঙ্গে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া দেখা দেয়, তখন চিকিৎসা বন্ধ করা ব্যতীত আর কোনও রাস্তা থাকে না। এর ফলে লিঙ্গের যত্রতত্র কুৎসিত দাগ পড়ে।
আরও অনেক জটিল মসস্যা হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্ৰকের মুখপাত্ৰ ডা. থোংচাই কিরাটিহুত্যাকৰ্ণ জানান, এই চিকিৎসা করা মানে অৰ্থের অপচয় ব্যতীত আর কিছু নয়, কেননা লিঙ্গ ফরসা না কালো তাতে তার উপযোগিতার হেরফের হয় না, এতে ভালোর চেয়ে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
