Scientific Innovation : ক্ষেত থেকে শুধু শস্যই নয়, পেতে পারেন বিদ্যুৎও

|

রানার প্রতিবেদন : নেদারল্যানডসের ( Netherlands ) একদল বিজ্ঞানী ( Scientists ) জলমগ্ন ধানের মতো শস্যখেত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ( Plants Generating Electricity ) পদ্ধতি বের করেছেন। এ পদ্ধতিতে ইতিমধ্যে তাঁরা গবেষণাগারে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করেছেন। উদ্ভিদ অনেক সময় নিজের প্ৰয়োজনের চেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদন করে। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্ল্যান্ট-ই নামের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষক মারজোলিন হেলডার ( Merozolin Helder )।

তিনি বলেন, সৌরশক্তি ( Solar energy ) বা বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে নতুন পদ্ধতিটি বেশি কাৰ্যকর হবে। কারণ, রাতে এবং বাতাসের অনুপস্থিতিতে এ প্ৰক্ৰিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। প্ল্যান্ট-ই প্ৰকল্পের ( Plant-e Project ) সূচনা হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের ওয়েইগনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে । এদিকে আরেকটি প্ৰতিবেদনে জানানো হয়েছে বিজ্ঞানীরা খামারের বৰ্জ্য থেকে বিদ্যুৎউৎপাদনের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।

ফলে এখন থেকে পোলট্ৰি বা গোরু ছাগলের খামার ও কসাইখানার বৰ্জ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। খামারের বৰ্জ্য কাজে লাগাতে পারলে যেমন খামার সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে তেমনি প্ৰয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদাও মিটবে। রাশিয়ার ‘লুচকি’ বায়োগ্যাস ( Bio-gas plant Luchki ) কেন্দ্ৰে এই প্ৰক্ৰিয়ায় ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। রাশিয়ার এই প্ৰযুক্তি এসেছে জাৰ্মানি থেকে।

প্ৰথমে এই প্ৰকল্পটি নানা কারণে প্ৰশ্নবিদ্ধ হয়। রাশিয়ার ( Russia ) ‘লুচকি’ বায়োগ্যাস কেন্দ্ৰের প্ৰধান ইলিয়া মেইলাখ বলেন, প্ৰশ্ন উঠেছিল রাশিয়াতে এমন প্ৰযুক্তির ব্যবহার আদৌ সম্ভব কিনা। জাৰ্মানির জলবায়ু এখানকার জলবায়ু থেকে ভিন্ন। এই বায়োগ্যাস প্ৰকল্প আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, এটা এখানেও সম্ভব। তাই এবার আমাদের এমন আরও কয়েকটি প্ৰকল্পে হাত দেওয়া উচিত।

এই প্ৰক্ৰিয়ায় বায়োগ্যাস তৈরি করতে জৈব-উপকরণ আসে কৃষি খামারগুলো থেকে। বছরে প্ৰায় ৭০ হাজার টন বৰ্জ্য এই প্ৰকল্পটিতে প্ৰয়োজন হয়। যার বেশিরভাগই আসে আশেপাশের অঞ্চলের পশু জবাই করার পর ফেলে দেওয়া আবৰ্জনা ও তরল সার থেকে। এর সঙ্গে দেওয়া হয় ভুট্টার খোসা, যাতে ব্যাকটেরিয়া এই মিশ্ৰণ ভালো করে হজম করতে পারে এবং মিথেন গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে।

ওই মিথেন গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎউৎপন্ন করা হয়। আশেপাশের এলাকার প্ৰায় ৩০ হাজার বাসিন্দা ‘লুচকি’র বায়োগ্যাস প্ৰকল্পটিতে কাঁচামাল সরবরাহ করে থাকেন। এতে এই অঞ্চলের শূকরের খামারগুলি পরিচ্ছন্ন থাকে। এখানকার খামারে প্ৰায় ১০ হাজার শূকরের প্ৰজনন করা হয়। যা থেকে বেশ ভালো পরিমাণ তরল, জৈব সার তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : দু’বছরে এগারোটা বিয়ে? ভয়ঙ্কর মেয়ের কাণ্ডে হতবাক সকলে

দীৰ্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আরও বেশি বায়োগ্যাস প্ৰকল্প তরল সারের সমাধান করতে পারে। ‘লুচকি’র এই বায়ো-গ্যাস প্ৰকল্পটি তৈরি করতে প্ৰায় ৫০ কোটি বল খরচ হয়েছে। রাশিয়ার প্ৰচণ্ড শীতেও জাৰ্মানির এই প্ৰযুক্তি কাজ করে থাকে বলে ইলিয়া মেইলাখ খুব খুশি।

তিনি বলেন, প্ৰথমদিকে অনেকে ভেবেছিল যে, এ ধরনের বায়োগ্যাস প্ৰকল্পের ফলে চারদিকে দুৰ্গন্ধ ছড়াবে। কিন্তু যেদিন থেকে প্ৰকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে, সবাই বুঝতে পেরেছে যে এ ধরনের প্ৰকল্প তাদের এলাকায় আরও বেশি সংখ্যায় প্ৰয়োজন। এদিকে অন্যান্য দেশও ইতিমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্ৰকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন