সুলভ শৌচালয়ে সেফ হোম? এমনটাই নাকি ভাবছে পুরসভা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরের নাইট শেল্টার ( Night Shelter ) এবং দোতলা পে এন্ড ইউস টয়লেটগুলি ( Pay And Use Toilet ) বা সুলভ শৌচালয়গুলি সেফ হোম করার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করছে কলকাতা পুরসভা। মূলত তৃতীয় ঢেউ সামলাতে এই পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। খাল ধার ধরে থাকা শেল্টারগুলিকে সেফ হোম ( Safe Home ) করার পরিকল্পনা রয়েছে।

করোনা আক্রান্ত বস্তিবাসীদের রাখার জন্যই মূলত এই ধরনের ভাবনা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে ফুটপাতবাসী বা ভবঘুরেদের জন্য ৪২টি নাইট সেন্টার বা সেল্টার রয়েছে। যদিও বেশ কিছু শেল্টার দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পুরসভার নিজস্ব ৬-৭টি। বাকিগুলি রাজ্য সরকারের সমাজ কল্যাণ দপ্তরের। কিন্তু সেগুলি পরিচালনা করে কলকাতা পুরসভাই।

কলকাতা পুরসভার বস্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বপন সমাদ্দার জানিয়েছেন, কোন নাইট শেল্টারগুলি ভালো আছে প্রথমে পরিদর্শন হবে। জনবহুল এলাকা থেকে মোটামুটি দূরের এমন কেন্দ্রগুলিকেই বেছে নেওয়া হবে। পাশাপাশি শহরের অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা দ্বিতল সুলভ শৌচালয়গুলিকেও সেফ হোম বা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভাবনা চিন্তা চলছে। যেখানে নিচতলা বা উপর তোলা বড় জায়গা রয়েছে।

বর্তমানে করোনাকালে দ্বিতীয় ঢেউ খানিকটা সামলে নেওয়া গিয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ আসবেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় কোথাও কোনও খামতি রাখতে চায় না কলকাতা পুরসভা। তাই বস্তি অঞ্চলের মানুষের জন্য এই বিশেষ ভাবনাচিন্তা। বস্তির কাছাকাছি তাঁদের নাইট সেন্টার বা দ্বিতল শৌচালয়ের সেফ হোমে রেখে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

চিকিৎসকদের কথায় সেফ হোম করতে হলে এই শেল্টারগুলি নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বেড দূরত্ব বজায় রেখে রাখতে হবে। একাধিক শৌচালয়ের ব্যাবস্থা থাকা খুব জরুরি। একজন চিকিৎসক, একজন স্বাস্থ্যকর্মী একজন ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। ওষুধ থেকে চার বেলা খাবার ব্যাবস্থা রাখতে হবে।

অক্সিজেনের ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও এটা করা হলে ফুটপাতবাসী বা ভবঘুরদের কোন অসুবিধা হবে না বলেই জানিয়েছেন স্বপন সমাদ্দার। তিনি বলেন, শহরের ফুটপাথবাসী বা ভবঘুরেদের কেউ আশ্রয়হীন হবেন না। যেখানে লোক সংখ্যা কম সেখান থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হবে তাঁদের।

আরও পড়ুন