নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরে ব্যবসা করতে হলে কলকাতা পুরসভার একটি NOC প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি Trade License -ও লাগে। কিন্তু সেটা পেতে হুজ্জোতি থাকায় অনেকেই সেটা না করিয়ে শুধু পুরসভার অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দেয়। সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়। সেই কারণে এবার নতুন পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )।
পুরসভার অনুমোদনের সঙ্গে রাজ্যের শ্রমদপ্তর ( Department Of Labour, West Bengal )-এর ব্যবসা সংক্রান্ত অনুমোদন মিলবে একটা ক্লিকেই, তেমনটাই ব্যবস্থা হচ্ছে। Online -এ পাওয়া যাবে দুটি NOC। ফলে পৃথক পৃথক আবেদনের ঝক্কি পোহানোর দিন শেষ। ইতিমধ্যেই মাসখানেক হল পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হয়েছে এই পরিষেবা। সাড়াও মিলছে ভালো। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আরও প্রচার চাইছে কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
পুরসভার লাইসেন্স বিভাগ (KMC License Department)-এর এক আধিকারিক বলেন, কলকাতা পুরসভার Website থেকেই এই সুবিধা মিলবে। ইজি টু ডু বিজনেস ( Easy to do Business )-এর আওতায় এটা হচ্ছে। কিভাবে মিলবে পরিষেবা? পদ্ধতি খুব সরল। যেভাবে কোনও ব্যবসায়ী পুরসভার ওয়েবসাইটে নতুন ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন, সেভাবেই করবেন।যদি তাঁর দোকানে তিনি কর্মচারী রাখেন তাহলে সেখানে দেওয়া হবে অপশন, চাওয়া হবে তথ্য।
তখন সেখানে সেটা দিতে হবে। একটা ক্লিকেই ওই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পাওয়া যাবে দু’ক্ষেত্রের NOC। এবং সেই অনুযায়ী পুরসভা এবং শ্রমদপ্তরের টাকাও একসঙ্গে কেটে নেওয়া হবে। পরে সেই টাকা শ্রমদপ্তরে পাঠিয়ে দেবে পুর-কর্তৃপক্ষ।নিয়ম অনুযায়ী, শহরে কোনও ব্যবসা করতে হলে বা যে কোনও ধরনের দোকান চালাতে গেলে পুরসভার থেকে একটা অনুমতি নিতে হয়।
সেইসঙ্গে কোনও ব্যবসায়ী যদি কর্মচারী রাখেন, এক বা একাধিক, সেখানে লাগু হয় শপ এন্ড এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট (Shop and Establishment Act, West Bengal ) তথা শ্রম আইন। শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমদপ্তরের থেকে ওই ব্যবসায়ীকে তখন আরও একটি NOC বা Original Trade License নিতে হয়। তবে কেউ যদি একা নিজের দোকান নিজেই চালান, তাহলে অবশ্য এই অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বহুলাংশেই কলকাতা পুরসভার থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিলেও শ্রমদপ্তরের এই অনুমোদন পত্র পেতে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় অনেকেই তার জন্য আবেদন করেন না। ফলে ক্ষতি হয় সরকারি রাজস্বের। সেই কারণেই শ্রমদপ্তর এবং কলকাতা পুরসভা যৌথ উদ্যোগে এই নতুন ক্যাপিং বা সংযুক্তিকরণ পদ্ধতি নিয়ে আসা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে না।
