বিশ্বের বিরল ঘটনা, মল দান করে অসংখ্য মানুষকে সুস্থ করছেন এক যুবতী

|

রানার প্রতিবেদন : ক্লডিয়া ক্যাম্পোলিনা (Claudia Campolina ) ব্ৰিটেনের এক সুন্দরী যুবতীর নাম। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ৰশাসনিক পদে চাকরি করেন। কিন্তু অবসর সময়ে তিনি যে কাজ করেন সেটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়। কী করেন তিনি? তিনি আসলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিজের মল অন্যদের দান করেন।

কারণ ডাক্তাররা আবিষ্কার করেছেন যে ক্লডিয়ার মলে এমন সব উৎকৃষ্ট মানের ব্যাকটেরিয়া আছে, যা মরণাপন্ন অন্য রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে বিভিন্ন পেটের রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। ক্লডিয়ার বয়স এখন ৩২। তিনি মলদানকে রক্তদানের মতোই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার বলেই মনে করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার অনেক বন্ধু মনে করে এটা একটা জঘন্য, ঘৃণ্য এবং উদ্ভট ব্যাপার।

কিন্তু এসব বাজে কথা আমাকে আদৌ বিচলিত করে না। মলদান করা খুবই সহজ এবং আমি চিকিৎসা গবেষণায় এভাবে অবদান রাখতে অত্যন্ত পেরে খুশি।’ এই ‘মল প্রতিস্থাপন’ কীভাবে কাজ করে? মনে রাখতে হবে এটা কোনও ঘেন্না করার মতো ব্যাপার নয়, বরং একটা জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা। মানুষের পেটের ভেতরকার নাড়িভুঁড়ি অৰ্থাৎ অন্ত্ৰের মধ্যে বাস করে অসংখ্যরকম অনুজীব।

কিন্তু বৰ্তমান যুগে মানুষ যে অ্যানটিবায়োটিক গুচ্ছে গুচ্ছে খায় তা অনেকসময় শরীরের ভালো এবং খারাপ দু’ধরনের ব্যাকটেরিয়াকেই নিৰ্বিচারে মেরে ফেলে। ব্যাকটেরিয়া নিমূল হয়ে যাওয়ার পর যে পেটের ভিতর শূন্যতার পরিবেশ তৈরি হয় তাতে ‘ক্লশটোডিয়াম ডিফিসিল’ (Clostridium Difficile Antibiotic ) নামে বিশেষ এক ধরনের ক্ষতিকর ও প্ৰাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটাতে থাকে। এর ফলে এমন ডায়ারিয়া (Diarrhoea ) হয়।

যার সাথে রক্তপাত, জ্বর এবং পেট ব্যথা হতে পারে– এবং অনেকক্ষেত্ৰে এটা এত গুরুতর নেয় যে রোগী খুব শিগগিরই মারা যান। এই পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প হিসেবে বেরিয়ে এসেছে এই ‘মল প্রতিস্থাপন’ চিকিৎসা। অৰ্থাৎ একজন সুস্থ ব্যক্তির মল থেকে ভালো ব্যকটেরিয়াগুলো সংগ্ৰহ করে তা রোগীর মলদ্বার দিয়ে শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া। ক্লডিয়ার মলে নাকি এত বেশি ভালো ব্যাকটেরিয়া ( Bacteria ) আছে যে তা রীতিমত বিরল।

বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘সুপার পু’ (মহামল), যার মধ্যে ভালো ভালো সব ব্যাকটেরিয়ার চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে এবং ক্লডিয়া হচ্ছেন একজন ‘সুপার ডোনার’ বা মহাদাতা। ক্লডিয়া একজন ভেজিটারিযান অৰ্থাৎ নিরামিষভোজী, আর জন্ম থেকেই নিরামিষভোজীরা ভালো মলদাতা হতে পারেন– এটা জানার পরেই তিনি একজন ডোনার হতে আগ্ৰহী হন। এরপরেই তাঁর মলে পাওয়া যায় উপকারী ব্যাকটেরিয়া সহ জীবনরক্ষাকারী নানা গুণাবলি।

আরও পড়ুন