হাজারো জটিলতায় দর্শক প্রশাসন, বিপজ্জনক বাড়ি ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরজুড়ে কলকাতা পুরসভার মাথাব্যথা বিপজ্জনক বাড়ি । প্রতিবছর কমবেশি ৪-৫টি করে দুর্ঘটনা ঘটে। শহরের বুকে বিপজ্জনক বাড়ি থাকলে সেখানে বিশেষ আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা রয়েছে কলকাতা পুরসভার। কিন্তু নানা আইনি জটিলতা এবং আবেগের যাঁতাকলে এই বাড়িগুলিতে কোনও অঘটন না ঘটলে পুরসভা পদক্ষেপ করতে পারছে না, অন্তত তেমনটাই দাবি করছেন আধিকারিকরা।

শরিকী বিবাদ গিয়ে ঠেকেছে আদালতে। যার জেরে আইনি জটিলতায় সেখানে হাত ছোঁয়াতে পারছে না পুর-কর্তৃপক্ষ। তার উপর রয়েছে ভাড়াটিয়াদের ‘বাস্তুচ্যুত’ হওয়ার ভয়, কোথাও আবার পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ত্যাগ না করার ‘আবেগ’ বিপজ্জনক বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার কাজে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। অনেক সময় আবার বাড়ি ভাঙতে গিয়ে আবাসিকদের বাধার মুখে ফিরে এসেছেন বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা।

যদিও, আইনি জটিলতা না থাকা বিভিন্ন বিপজ্জনক বাড়িগুলির ক্ষেত্রে কিছু কিছু পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছিল। পুরসভার নিজেরাই লোক পাঠিয়ে ক্ষমতাবলে ভেঙে দিয়ে আসছিল। কিন্তু করোনাকালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকা কর্মীর অভাব। গত বছর আমফানের পড়ে বিপদ আরও বেড়েছে শহরের প্রায় ৩০০০ বিপজ্জনক বাড়ির। যেখানে অতি বিপজ্জনক প্রায় ৪০০ বাড়ি।

যে কোনও মুহূর্তে বড়মাপের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, আশঙ্কা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের। এক আধিকারিক বলেন, এই ধরনের বাড়িতে কলকাতা পুরসভা নোটিশ পাঠায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আইনি বাধায় সেখানেই থেমে থাকতে হয়। অনেক সময় বাড়ির মালিক নিজেরাই সংস্কারের কাজ করে। কিন্তু সেটা হাতেগোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নানা জটিলতা রয়েছে।

দক্ষিণের খিদিরপুর, বালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বকুলবাগান, শরৎবোস রোড, উত্তর কলকাতার আহিরীটোলা, কাশিপুর, বড়বাজার এবং পোস্তা, পাইকপাড়া, চিৎপুর, কলেজ স্ট্রিট, বউবাজারে এই অতি বিপজ্জনক বাড়িগুলির যথেষ্ট কঙ্কালসার অবস্থা। বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি করার ক্ষেত্রেও আইনে বদল করে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তারপরেও সার্বিকভাবে বিপজ্জনক বাড়ির মালিকদের তেমন কোনও হেলদোল নেই। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের আক্ষেপ, অনেক বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে দিতে নিজে চেষ্টা করেছি। একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু শরিকী বিবাদের জেরে এক পক্ষ মানলেও অন্য পক্ষ মানেনি। ফলে, এই ধরনের নানা দোটানাতে পুরসভার সদিচ্ছা থাকলেও শহরের বুকে বিপজ্জনক বাড়ির ‘বিপদ’ কিন্তু কাটছে না।

আরও পড়ুন