Kolkata Corona Update : করোনা রুগী থাকলেই সাফাই কর্মী উধাও

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : বাড়িতে করোনা আক্রান্ত। কিন্তু নিয়মিত ময়লা তুলছে না কলকাতা পুরসভার সাফাই কর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে এমনই ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে। কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের। ‘পাঁচ দিন ধরে বাড়ির নিত্যদিনের ময়লা নিয়ে যাচ্ছে না। গন্ধে টেকা দায়।

রুম ফ্রেশনার মেরে কাজ চালাতে হচ্ছে।’ বক্তব্য কোয়ারেন্টেনে থাকা বেহালার ডায়মন্ড সিটির এক করোনা রোগীর পরিবারের। মেট্রোপলিটনের এক পরিবারের কথায়, ‘করোনা ধরা পড়ার পর থেকে সাফাই কর্মীরা আমাদের বাড়ির পথ ভুলে গেছে। কাউন্সিলারকে ফোন করে বলার চার-পাঁচ দিন পর ময়লা তোলার ব্যবস্থা হয়েছে।’

বেহালার করুনাময়ী ঘাট রোডের আরও এক করোনা আক্রান্ত পরিবারের অভিজ্ঞতাও মধুর নয়। ‘১০-১২ দিন ধরে সাফাই কর্মীরা ময়লা তুলতে আসেনি। প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে ঘরের বাইরে ফেলে রাখতাম। দুর্গন্ধে ম ম করত এলাকা।’ ফোনে জানালেন সেই পরিবারের এক সদস্য। একাধিক জায়গায় এই ধরনের নির্মম অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হচ্ছে আক্রান্তের পরিবারকে। সমস্যার কথা মানছেন প্রাক্তন কাউন্সিলাররা।

তাঁদের দাবি, সাফাই কর্মী পেতে কখনও ৪-৫ দিন হয়ে যাচ্ছে। আবার কখনও একেবারে কোয়ারান্টিন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ময়লা তুলতে যাচ্ছে পুর-কর্মীরা। ৩ নম্বর বরো কো-অর্ডিনেটর অনিন্দ্য রাউত বলেন, এই ধরনের সমস্যা প্রথম দিন থেকেই হচ্ছে। ভয়ঙ্কর আতঙ্ক কাজ করছে। তবুও যতটা পারছি তাড়াতাড়ি সেইসব বাড়ির আবর্জনা সাফাইয়ের ব্যবস্থা করছি। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু জানিয়েছেন, মূলত সচেতনতার অভাবেই এই সমস্যা হচ্ছে।

আমরা বারবার বলে বুঝিয়ে উঠতে পারছি না। অনেক ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিরা নিজেরাই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জনপ্রতিনিধিরা নিজেরাই এইসব পরিবারকে বড় প্লাস্টিক যোগান দিয়েছেন। বাপ্পাদিত্য দাসগুপ্ত, অরূপ চক্রবর্তী, জুই বিশ্বাসের মতো প্রাক্তন কাউন্সিলারদের কোথায়, আসলে প্রত্যেকের মধ্যেই ভয় কাজ করছে।

কি করবে বলুন! এই ধরনের বাড়িগুলোতে বড় হলুদ বা কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট দিয়ে দিয়েছি। সেখানেই তাঁরা নিত্যদিনের আবর্জনা ফেলছেন। কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল সাফাই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবব্রত মজুমদারের বক্তব্য, কোয়ারান্টিনে থাকা পরিবারকে চিকিৎসা বর্জ্য (মাস্ক, গ্লাভস) ফেলার জন্য হলুদ প্লাস্টিক বিলি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন