নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ইটের নিকাশি নালা। ব্রিটিশ আমলের সেই নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কারে বিশেষ পাত বসাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। খিদিরপুর-মমিনপুর অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালায় লাইনিং বা বিশেষ পাতের প্যানেল বসানোর কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই সেই কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথে কলকাতা পুরসভা বসাচ্ছে বিশেষ পাতের এই গোলাকৃতি ফ্রেম।
ফেন্সি মার্কেট থেকে মোমিনপুর পাম্পিং স্টেশনের ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা প্রায় ২.২ কিলোমিটার। পাম্পিং স্টেশন থেকে একটি ডেলিভারি লাইন মেহের আলি মণ্ডল রোড পর্যন্ত প্রায় ৪১০ মিটার। অন্যদিকে ডেন্ট মিশন রোড, মোমিনপুর রোড, জালা লেন হয়ে ডায়মন্ড হারবার রোড। বোট ক্যানেল পর্যন্ত আরও ৭৮৮ মিটার লাইন।
সব মিলিয়ে ভূগর্ভস্থ প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার নালায় এই কাজ হচ্ছে। দুটি ধাপে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপ সম্পন্ন। দ্বিতীয় ধাপের কাজও প্রায় শেষের দিকে। প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করছে কলকাতা পুরসভার টাউন প্ল্যানিং বিভাগ।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তারক সিং জানিয়েছেন, পুরনো ব্রিটিশ আমলের তৈরি ইটের টানেলের ভিতরে বিশেষ পাত দিয়ে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কাজ শেষ হলে ওই অঞ্চলে জমা জলের দুর্ভোগ কমাতে তা অনেকটাই কার্যকরী হবে।
যদিও এই কাজ গত বছর নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা-লকডাউন, সেইসঙ্গে বর্ষায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাই কাজ শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকেরা। দু’ধাপে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, সকালের দিকে এই ধরনের কাজ হয় না। নিকাশি নালার কাজ রাতের দিকে স্বাভাবিক নিয়মে হয়। প্রায় ১৮-১৯ ফুট গভীরে নেমে কাজ করতে হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি ইটের ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। তার চারিপাশে বিশেষ ধরনের উপকরণ সহকারে গোলাকৃতি পাতে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।
