রানার প্রতিবেদন : স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আমরা সকলেই কৰ্মজীবনে প্ৰবেশ করি। উদ্দেশ্য টাকা রোজগার করা, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা। কিন্তু যদি এমন হয় কৰ্ম, আয়, রোজগার কিছুই নেই, বেঁচে থাকা তখন আদৌ সম্ভব হবে কি? শতকরা বেশির ভাগেরই উত্তর হবে, না, এ অসম্ভব। কিন্তু এই অপার্থিব অলৌকিক ভাবনাটাকেই সত্যি করে ফেলেছেন আইরিশ যুবক মাৰ্ক বয়েল।
বিজনেস ইকনমিক্সের ডিগ্ৰি পকেটে নিয়ে তখন টাকা রোজগারের চিন্তা করছিলেন মার্ক। আর পাঁচটা সাধারণ যুবকের মতো তিনিও ভেবেছিলেন কীভাবে টাকা রোজগার করে ভালোভাবে বাঁচতে পারবেন। সমাজকে দেখাতে পারবেন যে, তিনি সফল।তার উপায়ও হয়েছিল। এক বড় মাপের ফুড কোম্পানিতে ম্যানেজারের চাকরি নিয়ে আরামের জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। বাধ সাধল একটি বিশেষ ভিডিও ফুটেজ।
কোনো এক সন্ধ্যায় এক গ্লাস ওয়াইনের সঙ্গে নদীর হাওয়া উপভোগ করছিলেন মাৰ্ক। সেই সময় তাঁর এক বন্ধুর কাছে মহাত্মা গান্ধীর একটি ভিডিও দেখছিলেন তিনি। যেখানে রয়েছে গান্ধীর বিশেষ একটি কোটেশন। আমাদের অনেকেরই পরিচিত সেই কোটেশনটি হল – বি দ্য চেঞ্জ ইউ ওয়ান্ট টু সি ইন দ্য ওয়াৰ্ল্ড (তুমি চাইলেই পৃথিবীতে পরিবৰ্তন আসতে পারে)।
ওটা দেখার পর বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন, পৃথিবীর সাম্প্ৰতিক সমস্যাগুলো নিয়ে। অনেক ভেবে দেখেন, সব সমস্যার সমাধানেই নিজেকে বড় ক্ষুদ্ৰ মনে হয়। সেদিনের মতো থমকে যান তিনি। পরের দিন আচমকাই মাৰ্কের মাথায় আসে যে যাবতীয় সমস্যার মূলেই আসলে টাকা। এই সমস্যাটাকে সমূলে নিধন করাই একমাত্ৰ উপায়।
তিনি ভেবে দেখেন, পৃথিবীজুড়ে মানুষে মানুষে বৈষম্যের কারণও সেই টাকা। টাকা ছাড়াই কীভাবে সুখে থাকা সম্ভব, সে ব্যাপারে মাৰ্কের উদাহরণ, যদি আমাদের নিজেদের খাবার নিজেদেরই বানাতে হয়, তাহলে আমরা সেটা নষ্ট করার আগে দুবার ভাবব। নিজেদের চেয়ার-টেবিল যদি নিজেরাই বানাই, তাহলে চট করে সেগুলো ফেলে দিয়ে নতুন আনার কথা ভাবব না।
শুধু ভাবণাতেই তিনি থেমে থাকেননি। কাজেও করে দেখালেন মাৰ্ক বয়েল। প্ৰথম দিনই প্ৰাকৃতিক ফলমূল আর নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার থেকে তিনরকমের খাবার বানিয়ে ফেলেন তিনি। রকেট স্টোভে স্বল্প জ্বালানিতে খাবার তৈরির বন্দোবস্তে বেশ খুশি হন মার্ক। পড়ে থাকা সাইকেল দিয়ে নিজের থাকার মতো একটি ক্যারাভ্যানও বানিয়েছেন মাৰ্ক, যা রাখা থাকে একটি বাড়ির পাশে।
ল্যাম্পপোস্টের আলোতেই কাজ চলে যায় তাঁর। যাতায়াতের সময় মাৰ্ক ব্যবহার করেন বাড়তি মোম দিয়ে তৈরি মোমবাতি। পুরনো বোতলে একগুচ্ছ কাঠ জ্বালিয়ে নিজের থাকার জায়গাটা গরম করে নেন অনায়াসেই। স্নান করেন নদীতে। ব্ৰাশের বদলে দাঁত পরিষ্কার করতে ব্যবহার করেন কাটলফিশের হাড় ও মৌরি।
এছাড়া নিজে পরিষ্কার থাকার জন্য পত্ৰিকা বিক্ৰেতাদের কাছ থেকে নিয়ে নেন বাড়তি হওয়া কাগজ। এমনই রয়েছে আরও অনেক আজব কারবার। প্ৰথম প্ৰথম মানিয়ে নিতে অসুবিধা হলেও, অর্থহীনভাবেই ৭ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। এখন তিনি এই জীবনে অভ্যস্ত।বন্ধুরা তাঁকে অনেক বুঝিয়েছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। ৩৫২ পৃষ্ঠার একটি আত্মজীবনীও লিখে ফেলেছেন তিনি, নাম তার ‘মানিলেস ম্যানিফেস্টো’।
