নন্দলাল বসুর ভিটে গুঁড়িয়ে হোটেল তৈরির চক্রান্ত, অভিযোগ পরিবারের

|

রানার ডেস্ক : কিংবদন্তী চিত্র শিল্পী নন্দলাল বসুর বসত ভিটের এই জীর্ণ দশা কেন? কেনই বা সংস্কার হচ্ছে না? এই বাড়িটিকে তো হেরিটেজের তকমা দিয়েছে পুরসভা। তারপরেও এত উপেক্ষা? একথা শুনেই যথেষ্ট আক্ষেপ ঝরে পড়লো পরিবারের পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের সদস্যা রীতা বসুর গলায়। কার্যত রাগত সুরে বললেন, ‘সরকারিভাবে ওই বাড়ির মালিক এখন আমরা নয়।

এখন ওটা হর্ষ নেওটিয়ার সম্পত্তি। বলেছিলেন হেরিটেজ অক্ষুন্ন রেখেই বাড়িটি হোটেল হবে এই শর্তেই বাড়িটি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৪ বছর ধরে একবারও সংস্কারের কাজ হয়নি।’ স্থানীয় কো-অর্ডিনেটর বাপি ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, এটা অনেকদিন ধরেই সংস্কার হওয়ার কথা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হয়তো কাজ এগোতে পারেনি। বাড়ির সঙ্গেই লাগোয়া এক সীমানাতে রীতাদেবি ও তাঁর পরিবারের বর্ধিষ্ণু আবাসন।

নিজস্ব চিত্র : সূর্য্য রায়

রিতা দেবী বলেন, ‘দেখছেন তো খুব একটা দূরে নেই।বাড়িটা কখন ধসে পড়বে সেই আতঙ্কে থাকি সবসময়। আমার বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক বার বলেও কিছুই হয়নি। হয়তো এখন বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার অপেক্ষা করছেন নেওটিয়া। হেরিটেজের কোনও চিহ্নই রাখবেন না, রাগ-আক্ষেপ মেশানো গলায় বললেন রীতাদেবী। তারপর যোগ করেন, প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর বসতভিটে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েই তারপর হয়ত তৈরি করবেন আধুনিক হোটেল।

নেউটিয়া হয়ত এখন অপেক্ষা করছেন, কবে বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। কালোতীর্ণ, জরাজীর্ণ। বিগত ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে ঠায় দাঁড়িয়ে। ‘যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। সংস্কারের বালাই নেই। উল্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে’, বাগবাজার স্ট্রিট, ‘বসু বাটি’র বাইরে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। প্রাচীন এই অট্টালিকার একদা মালিক ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রকর তথা শান্তিনিকেতনের কলাভবনের একদা প্রিন্সিপাল কিংবদন্তী শিল্পী নন্দলাল বসু।

নিজস্ব চিত্র : সূর্য্য রায়

চিত্তরঞ্জন এভিনিউ ধরে বাগবাজার স্ট্রিটে নেমে হাঁটা পথে বাঁদিকে ক্ষুদিরাম বোসের আবক্ষ মূর্তি রেখে বাঁ দিকের গলিতে ঢোকার মুখেই জ্বলজ্বল করবে কলকাতা পুরসভার মরচে ধরা লাল-হলুদ বোর্ড, হেরিটেজ আখ্যা দেওয়া ‘বসু বাটি’। ওইটুকুই! গলি ধরে সোজা এগিয়ে গেলে শেষ প্রান্তে রাস্তা মিশছে প্রমাণ সাইজের মলিন হয়ে পড়া বাড়িটিতে। ৬৫/১ এ, বাগবাজার স্ট্রিট, বাগবাজার কলোনি।

যথেষ্ট বেড়ে ওঠা ঘাসের জঙ্গলে আস্ত মানুষ লুকোতে পারে! লোহার গেটে গাঢ় হয়েছে মরচের ক্ষত। পলেস্তারা খসা গম্বুজ থেকে উঁকি দিচ্ছে ইঁটের পাঁজর। লতায় পাতায় আষ্টেপৃষ্ঠে বাড়ির দেওয়াল। ঝুলন্ত বারান্দায় তলা থেকে বেরিয়ে পড়েছে জং ধরা লোহার কাঠামো। ছাদ চুইয়ে অবিরাম বারি ধরা।

ইতিহাস বহন করে চলা ২২ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা অট্টালিকাটি আজ নিজেই যেন এক ‘ভৌতিক’ ঠিকানা। হ্যাঁ, শহরের বুকে হেরিটেজ আখ্যা পাওয়া প্রবাদপ্রতীম চিত্রকর নন্দলাল বসুর বাড়ির এই পরিস্থিতি। যেখানে একসময় এসে থেকেছেন স্বয়ং রবি ঠাকুর থেকে শুরু করে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। সব ইতিহাস এখন মুছে দেবার জন্য ওৎ পেতে বসে আছে এক প্রমোটার।

আরও পড়ুন