নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : প্রায় দেড় বছর হতে চলল। করোনাকালে লকডাউনের জেরে বন্ধ কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠন। রাজ্য সরকারি স্কুলগুলিতে চলছে অনলাইন ক্লাস। দেওয়া হচ্ছে হোমওয়ার্কও। স্কুল চলছে নিয়মমাফিক। কিন্তু পঠন-পাঠন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ কলকাতা পুরসভার স্কুলে। আগামী দিনের স্কুল খুললে বড় অংশের পড়ুয়াদের ফেরানো যাবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষকদের একাংশ।
যদিও, আশঙ্কা ওড়াচ্ছে কলকাতা পুরসভার স্কুল শিক্ষা বিভাগ। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার নিজস্ব ২৬৩টি স্কুল এবং আরও ১০২টি এসএসকে চলছে শহরে। পুরসভার স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। শিক্ষক রয়েছেন ৫৮২ জন। এছাড়াও এসএসকেগুলিতে ২০৪ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং দুজন ইন্সপেক্টর রয়েছেন। আরও ২০০ জন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু শিক্ষকদের দিয়ে পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন করোনায় বদলে অন্য কাজে লাগিয়েছে কলকাতা পুরসভা। তাঁদের দিয়ে সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের নানা ধরনের কাজ করানো হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্বাস্থ্য সমীক্ষার কাজ থেকে শুরু করে ‘দুয়ারে সরকার’ কিংবা ‘পাড়ায় সমাধান’ কর্মসূচিতে কর্মসূচিতে নামানো হয়েছিল শিক্ষকদের।
মধ্য কলকাতার পুর স্কুলের এক শিক্ষকের বক্তব্য, রাজ্য সরকারি স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য কাজ করছি। এখন আবার লকডাউন এ করোনাকালে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি মতো কাজও করছেন স্কুল শিক্ষকরা। কবে স্কুল খুলবে ঠিক নেই। পুর স্কুলের একমাত্র যে গরিব বাড়ির বাচ্চারা পড়ে এমনটা নয়।
অনেক জায়গাতেই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরাও পড়াশোনা করতে আসে। এখানে অনলাইন ক্লাস না হলে অভিভাবকরা বাচ্চাদের অন্য স্কুলে নিয়ে যাবেন। আগামী দিনের স্কুল খুললে সেই পড়ুয়ারা কতটা পুরসভার স্কুলে ফিরবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। যদিও স্কুলছুট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই দাবি করেছেন কলকাতা পুরসভার শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, মূলত গরিব বাড়ির বাচ্চারা পড়ে। তাঁদের অনলাইন ক্লাস করানোর সুযোগ নেই। শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। হোম ওয়ার্ক দিচ্ছেন। মিড ডে মিলের খাবার পৌঁছানো হচ্ছে। স্কুলছুট হওয়ার কোনও অবকাশ নেই।
