নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : লকডাউনের সুযোগে এবার শহরের উড়ালপুল দেখভালের কাজে হাত লাগাল কেএমডিএ। কার্যত লকডাউনের জেরে শহরে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু সংস্কার এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছে কেএমডিএ। আরও কয়েকটি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে কেএমডিএ সূত্রে।
ঢাকুরিয়া সেতুর বর্তমান অবস্থা জানতে শুক্রবার রাত থেকেই দক্ষিণ কলকাতার ওই সেতুর নীচে মাটির অবস্থা কেমন, তা জানতে পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী, বৃহস্পতিবার এই কাজ শেষ হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে গতকাল রাত থেকেই সুকান্ত সেতুর সন্তোষপুরমুখী র্যাম্পের সংস্কারের কাজেও হাত দেওয়া হয়েছে।
দুই সেতুর কাজের জন্য যান চলাচলে সেভাবে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। যে অংশে কাজ হচ্ছে তা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ ঢাকুরিয়া সেতুর লোডিং ক্ষমতা এবং ঠিক কেমন অবস্থায় রয়েছে সেতুটি তা পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করে, রেললাইনের দুপ্রান্তে থাকা এই সেতুর পিলারের নীচে যে মাটি রয়েছে তা পরীক্ষা করা জরুরি।
কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিয়ালদহ, উল্টোডাঙা, চিংড়িহাটা এবং অরবিন্দ সেতুরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কয়েকদিনে মধ্যেই শুরু হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস নাগাদ বাঘাযতীন এবং কালীঘাট সেতুর সংস্কারের কাজ হাত দিয়েছিল কেএমডিএ। ওই দুই সেতুর উপরের অংশে যেমন বিক্ষিপ্তভাবে ফাটল ছিল, তেমনই পিলারেও ফাটল তৈরি হয়েছিল।
সমস্যা ছিল, দুটি ব্রিজের জয়েন্ট পয়েন্টেও। এছাড়াও, দুটি ব্রিজের নীচে অনেক আগাছা জন্মেছিল, যা না কেটে ফেলায় সমস্যা বাড়ছিল। সেই সেতুগুলির সংস্কার ইতিমধ্যেই সংস্কার হয়েছে। শিয়ালদহ, উল্টোডাঙা, চিংড়িহাটা, অরবিন্দ সেতুর বর্তমান যা অবস্থা তাতে ৭১ টনের বেশি মাল বহনের ক্ষমতা এই ৪ সেতুর বলে গতবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিনিধিরা। ট্র্যাফিক পুলিশের কর্তাদের বক্তব্য, যেহেতু এখন গাড়ির সংখ্যা ভীষণই কম। সে-কারণেই আলাদা করে গাড়ি বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা পড়ছে না।
