বেনারসি পিপিই, গোলাপ জলের স্যানিটাইজার, অভিনব বিবাহের সাক্ষী রানার

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সানাই, ব্যান্ড পার্টি, নহবত- এসব এখন অতীত। করোনা আবহে বিয়েতে বাধ্যতামূলক নব সংযোজন মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার কিংবা পকেট একটু বেশি খসালে পিপিই কিট। সেই সঙ্গে জনপ্রিয় হচ্ছে বিয়ের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’, বলা চলে নতুন স্ট্যাটাস সিম্বল। কোনও ফ্যাশনেবল মাস্ক নয়, দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে এন – ৯৫ মাস্কই কিনেছি।

কোনও দিন ভাবিনি, জানাচ্ছিলেন এক হবু বর। বিয়ের আসরে ঢোকার মুখে শাড়ি পড়ে সুদর্শনা নয়, দুধ সাদা পিপিই পড়েই অতিথি আপ্যায়ন। গোলাপজল কিংবা আতরের জায়গা নিয়েছে স্যানিটাইজার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ছাদনা তলার আশেপাশে কয়েক ফুট ছেড়ে সাজানো অতিথি-আসন। জনা তিরিশ – চল্লিশের আয়োজন।

পোশাকের সঙ্গে মানানসই জরির কাজের মাস্কে মুখ ঢেকেছে নবদম্পতির। অতিথি আপ্যায়নে খাবার পরিবেশন হোক কিংবা বুফে সবক্ষেত্রেই পিপিই পরিহিত ওয়েটার। চলছে বিয়ের ‘ লাইভ – স্ট্রিমিং।’ অনুপস্থিত আত্মীয়-স্বজনের জন্য ঘরে বসেই চক্ষুতৃপ্তির সুযোগ। সম্প্রতি, নিউ টাউনের এক ব্যাংকুয়েটে হওয়া বিয়ের অনুষ্ঠান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কথায়, যতটা সম্ভব শর্ত মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। আগে হাতে গোনা কয়েকটা অনুষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা করলেও ইদানিং যে আট-দশটা অনুষ্ঠান করেছি, তাতে গ্রাহকের ইচ্ছায় ‘ লাইভ স্ট্রিমিং ‘- এর ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। বিবাহিত যুগল জানালেন, সাড়ে ৬০০ লোকের তালিকা ছেঁটে ৪০ হয়েছে।

এভাবে মাস্ক পড়ে বিয়ে করতে হবে, আনন্দে গা ভাসাতে পারব না, কোনও দিন ভাবিনি। নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাছে এই পরিস্থিতিতে বিবাহ অভিযানের ঝক্কি কিন্তু নেহাত কম হচ্ছে না। বিয়ে ক্যানসেল হয়েছে না হয় নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থানান্তরিত হয়েছে। কেউ আবার শুধুমাত্র নমো-নমো করে রেজিস্ট্রি সেরেছেন।

বিয়ে মানেই অন্তত দিন সাতেকের হৈ-হুল্লোড়, পারিবারিক আড্ডা-মেলামেশা। সেই জৌলুসের আলো কেড়েছে করোনা। খাজনার থেকে বাজনা বেশি, বলেই ফেললেন দমদমের এক মধ্যবয়সী ইভেন্ট প্ল্যানার। ক্রিজ ছাড়তে নারাজ, তাই ব্যবসার ব্যাটিং চালাতে গিয়ে বিয়ের কাজ নিয়েছেন। বললেন, বন্ধ করে কী লাভ? এটাই তো রুটি-রুজি।

লোকসান মেনেও উইকেটে টিকে থাকলে রান তো আসবেই। অন্যদিকে, গুটিকয়েক সংস্থা অর্ডার নিলেও বাইরে থেকে রান্না করে পাঠিয়ে দিচ্ছে। নিজেরাই পরিবেশন করে নিচ্ছেন পরিবারের লোকেরা। অনুষ্ঠান বাড়িতে জনা ২৫-৩০ লোক সামলাতে নতুন করে ক্যাটারিংয়ের ছেলেদের খরচা উঠবে না, তাই এই সিদ্ধান্ত। আবার কেউ সবটাই করে দিচ্ছেন কিছুটা বেশি পয়সায়।

আরও পড়ুন