সাধারণ শৌচালয়গুলি থেকে হুহু করে ছড়াচ্ছে করোনা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নিত্যদিন সংক্রমণ বাড়াচ্ছে করোনা। শহরের বহুতল আবাসন, বস্তি, বাজার -সর্বত্র নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। তার পরেও শহরের বুকে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না। পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন রেকর্ড গড়ছে মৃত্যুসংখ্যা। এসবের মধ্যেই চিন্তায় রাখছে শহরের শৌচালয়গুলি। সেখানেও নিয়ম বিধি মেনে চলার বালাই নেই।

কলকাতা পুরসভা নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু তবে আদৌ কতটা মানা হচ্ছে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ ছড়ানোর অন্যতম আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে শৌচালয়গুলি। কলকাতা পুরসভার ‘ পে অ্যান্ড ইউজ ‘ টয়লেটের সংখ্যা ৩৭০-৩৭৫টি। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী কিংবা কিছু এজেন্সি সেগুলি পরিচালনা করে। প্রতিদিনই নানা ধরনের মানুষ এই সেগুলি ব্যবহার করে।

এই ধরনের শৌচালয়ের বাইরেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে খোলা মূত্রত্যাগের জায়গা রয়েছে। যেগুলি কোনওভাবেই দেখভাল হয় না। খোলা অবস্থাতেই থাকে। পরিষ্কার করাও হয় না। ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেট হোক কিংবা রাস্তার ধারে খোলা মূত্রত্যাগের জায়গা, সেসব থেকে স্বাভাবিকভাবেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সেক্ষেত্রে টয়লেটগুলিতে যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শহরের বেশিরভাগ ‘পে এন্ড ইউজ’ টয়লেটে সেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। তার উপর খোলা বাথরুমগুলির অবস্থা তথৈবচ। সেদিকে কোনও নজর নেই প্রশাসনের। বড়বাজার, গিরিশ পার্ক, চাঁদনী, ধর্মতলা, শিয়ালদা, রাজবিহারী, বালিগঞ্জ সহ একাধিক জায়গায় ‘পে এন্ড ইউজ’ টয়লেট ঘুরে দেখা মিলল না কোনও বিধিনিষেধের।

যখন খুশি ঢোকা, ভিতরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগ-সবটাই চলছে আগের মতোই খামখেয়ালে। নেই কোনও স্যানিটাইজার কিংবা মাস্ক পড়ে বাথরুমে ঢোকার বাধ্যবাধকতা। ফলে, সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছেই।

যদিও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য স্বপন সমাদ্দার জানিয়েছেন, যে এজেন্সি বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি শৌচালয় দেখভাল করে, তাদের প্রত্যেককে আমরা স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

মাস্ক না থাকলে শৌচালয় ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি, প্রতি সপ্তাহেই শৌচালয় জীবাণুমুক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শৌচালয়গুলিতে সেইসব সতর্কতার কোনও বালাই নেই। নোংরা শৌচালয়গুলি হয়ে উঠেছে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আদর্শ জায়গা।

আরও পড়ুন