আগরতলায় ভয়াবহ করোনা, খবর চাপতে টিভি সম্প্রচার আটকে দিল সরকার

|

রানার ডেস্ক, ত্রিপুরা : হুহু করে রাজধানী আগরতলায় ছড়াচ্ছে করোনা। বাড়ছে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা। গোটা রাজ্যে যত জন করোনা আক্রান্ত, তারমধ্যে ৬৫ শতাংশই আগরতলার। পরিকাঠামোর অভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এই মুহূর্তে আগরতলার হাসপাতালগুলিতে এক হাজারের বেশি রুগীর চিকিৎসা চলছে।

প্রতিদিন এনিয়ে খবর হচ্ছে, ফলে চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর, বাড়ছে অস্বস্তি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার শেষ পর্যন্ত কেবল টিভি পরিসেবাই বন্ধ করে দিয়েছে। গত ১৭ মে থেকে আগরতলায় ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। মানুষ বাড়িতে বসে টিভি দেখতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সংগঠন এসেম্বলি অফ জেনালিস্ট-এর পক্ষ থেকে টেলিভিশন পরিষেবা চালুর দাবি জানানো হয়। সাংবাদিকরা এনিয়ে মুখ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে এর বিহিত দাবি করেন। সেশপর্য্ন্ত দাবি আংশিক মেনে নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। নিচে সাংবাসিকদের প্রেস বিবৃতি তুলে ধরা হলো।

প্রেস বিবৃতি
আগরতলা, ১৮ মেঃ অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টস -র দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্যে ক্যাবল টিভি পরিষেবা স্বাভাবিক হতে চলছে। এ ও জে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে দাবি জানিয়েছিল রবিবার। মঙ্গলবার অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টস’র পক্ষে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এব্যাপারে আলোচনা হয়।

এরপরই ক্যাবল টিভি পরিষেবা আংশিক চালু হয়। অবশ্য স্থানীয় টিভি চ্যানেল গুলি এখনো বন্ধ রয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টস অবিলম্বে স্থানীয় টিভি চ্যানেল গুলি অবিলম্বে চালু করতে দাবি করছে। গত শনিবার থেকে আগরতলা সহ রাজ্যের বেশকিছু স্থানে হঠাৎ করেই ক্যাবল টিভি পরিষেবা বন্ধ হয়ে পরে। প্রশাসনের পক্ষে এক অভিযানের পর ক্যাবল টিভি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফলে এই করোনা অতিমারির মরশুমে সাধারণ মানুষ সংবাদ সহ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। এ ও জি জনসাধারণের এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে সোচ্চার হয়ে আওয়াজ তোলে। সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসন পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় বলে মনে করছে অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টস।

সম্রাট চৌধুরী
প্রেস সচিব
অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টস
আগরতলা, ত্রিপুরা।

সরকার জানিয়েছে, ত্রিপুরার স্থানীয় চ্যানেলগুলোকে আপাতত সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হবে না। ত্রিপুরার বাইরের চ্যানেলগুলো যাতে মানুষ দেখতে পান, তারজন্য অপারেটরদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এই ধরণের দানবীয় পদক্ষেপ গণতন্ত্রে কখনোই কাম্য নয়।

এই সরকার ক্ষমতায় আসর পর থেকে সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে একের পর এক স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। যেহেতু স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরছে সেহেতু লোকাল চ্যানেলগুলিকে সম্প্রচারের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার।

আরও পড়ুন